ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের কঠোর অভিযানের মুখে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি তার বক্তব্য আরও কঠোর করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (Social Media)-এ তিনি লিখেছেন, ইরানের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত জনগণের পাশে যুক্তরাষ্ট্র 'সহায়তার জন্য প্রস্তুত'। এর আগেও তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হয়, তবে মার্কিন বাহিনী 'লকড অ্যান্ড লোডেড'— অর্থাৎ সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
বিক্ষোভের মূল কারণ ও তীব্রতা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, দেশটিতে মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন (Devaluation) থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১৬ জন নিহত হয়েছেন। অর্থনৈতিক এই বিক্ষোভ দ্রুতই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়। ইরানের বাইরে লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইরানের পাল্টা অভিযোগ ও কঠোরতা ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে এবং দেশটির কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বিদেশি ‘শত্রুরা’ এই অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা এই বিক্ষোভের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছেন।