পবিত্র হজে অংশ নিতে ইচ্ছুক বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সকল যাত্রীর জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী মোট ১১ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরই কেবল হজযাত্রীরা টিকা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এই পরীক্ষাগুলো আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
টিকা গ্রহণের পূর্বশর্ত ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে (৬ জানুয়ারি) স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো হজের টিকা গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে না পারলে কোনোভাবেই টিকা নেওয়া যাবে না এবং এর ফলে হজে যেতেও জটিলতা তৈরি হবে।
যে সকল পরীক্ষা অবশ্যই করতে হবে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে তার মধ্যে রয়েছে: ইউরিন আর/এম/ই, র্যান্ডম ব্লাড সুগার (আরবিএস), এক্স রে, ইসিজি রিপোর্ট, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি উইথ ইএসআর) এবং ব্লাড গ্রুপিং ও আরএইচ টাইপিং। এই পরীক্ষাগুলো সুস্থতার প্রাথমিক সনদ হিসেবে কাজ করবে।
জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষা যারা দুরারোগ্য বা জটিল রোগে আক্রান্ত, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুসারে অতিরিক্ত পরীক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেমন:
- হৃদযন্ত্রের সমস্যা: ইকোকার্ডিওগ্রাফি।
- কিডনি জটিলতা: সিরাম ক্রিয়েটিনিন ও ইউএসজি অব কিইউবি।
- লিভার সিরোসিস: ইউএসজি হোল অ্যাবডোমেন ও আপার জিআইটি এন্ডোস্কপি।
- দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ: স্পুটাম ফর এএফবি, সিটি স্ক্যান অব চেস্ট, সিরাম বিলিরুবিন, এসজিপিটি ও অ্যালবুমিন/গ্লোবিউলিন রেশিও।
টিকা ও স্বাস্থ্য সনদ প্রক্রিয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট এবং ই-হেলথ প্রোফাইলের কপি টিকাকেন্দ্রে উপস্থিত মেডিকেল টিমের কাছে জমা দিতে হবে। এরপরই টিকা সম্পন্ন করা হবে এবং হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সনদ প্রদান করা হবে। এটি হজ পালনের জন্য একটি অপরিহার্য ধাপ।
হজ ও যাত্রী সংখ্যা চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী হজ পালনের সুযোগ পাবেন। হজ সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য বা জিজ্ঞাসার জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ কল সেন্টার (১৬১৩৬) নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।