রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও তৃণমূলের কর্মীদের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে— দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক কর্মীকে লক্ষ্য করে তারেক রহমান নিজেই গাড়ির দরজা খুলে তাকে কাছে ডেকে নিচ্ছেন এবং অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন।
নেতার এমন সহজলভ্যতা ও আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে সেই মুহূর্তটির ভিডিও নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছেন শেখ তানভীর বারী হামিম। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ নেটিজেনদের মাঝে ‘Viral’ হয়ে যায়।
হৃদ্যতার এক অনন্য চিত্র
ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি অনুষ্ঠান বা সভা শেষে তারেক রহমান যখন বের হচ্ছিলেন, তখন কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন হামিম। তাকে দেখতে পেয়ে তারেক রহমান প্রোটোকলের তোয়াক্কা না করে নিজেই গাড়ির দরজা খুলে হামিমকে কাছে আসার সংকেত দেন। হামিম কাছে গেলে তিনি সহাস্যে তার খোঁজখবর নেন। এই ছোট কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাটি দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ‘Emotional’ সংযোগ তৈরি করেছে।
‘পদ নয়, আদর্শের রাজনীতিই শেষ কথা’
ভিডিওটির ক্যাপশনে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে হামিম এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি গর্বিত, প্রিয় নেতা। দূর থেকে দেখে দরজা খুলে আমাকে কাছে ডেকে নিয়েছেন। এ দলে আমার কোনো পদের দরকার নেই। তারেক রহমানের ভালোবাসা নিয়ে আজীবন এ দলের পতাকাতলে থাকতে চাই।”
হামিমের এই বক্তব্য বর্তমান সময়ের ‘Power Politics’ বা পদের লড়াইয়ের বিপরীতে এক বিরল আনুগত্যের পরিচয় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একজন সাধারণ কর্মীর প্রতি শীর্ষ নেতার এই ‘Personal Touch’ দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও ডিজিটাল জোয়ার
ভিডিওটি পোস্ট করার পর থেকেই ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মন্তব্য বিভাগে অনেকেই লিখেছেন, একজন প্রকৃত নেতার গুণই হলো তার কর্মীদের চেনা এবং তাদের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া। অনেকে একে ‘Leadership Excellence’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন। তারেক রহমানের এই সহজ ও সাবলীল আচরণ কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে বড় ভূমিকা পালন করছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ভিডিওটির প্রচার কেবল একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি সমসাময়িক রাজনীতিতে ‘Accessibility’ বা নেতৃত্বের সাধারণ মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর গুরুত্বকেও ফুটিয়ে তুলেছে।