পাশাপাশি এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষকে সহযোগিতার জন্য বাদীপক্ষে তিনজন আইনজীবী নিয়োগের আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা হলেন— সিনিয়র আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল।
এদিন সকাল ১১টার দিকে আদালতে আসেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। এ সময় ফাতিমা তাসনিম জুমা, শান্তা আক্তারসহ আরও অনেকে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
পরে মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল জাবের আদালতের কাছে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবীরা চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান।
পর্যালোচনা শেষে আগামী বৃহস্পতিবার তারা চার্জশিট গ্রহণ বা নারাজির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানান। পরে আদালত তাদের আবেদন গ্রহণ করে চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা শুনানির জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। শুনানি শেষে আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি বলতেন, ‘আমার শত্রুর সঙ্গেও ন্যায়বিচার চাই।’ সেই কথাকে সামনে রেখে আমরা এ মামলার চার্জশিট আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে চাই, যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তি শাস্তি না পান।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ১৭ জনের মধ্যে ৯ জন জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। পরদিন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম চার্জশিটটি ‘দেখিলাম’ বলে স্বাক্ষর করেন। এরপর চার্জশিটে কোনো আপত্তি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বক্তব্য শুনতে বাদীকে ১২ জানুয়ারি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান হাদি।
মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ী মধ্যে একজন চলন্ত রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। গত ২০ ডিসেম্বর দুপুরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বৃহৎ জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।