মাঠের ভেতরে তিনি আক্রমণাত্মক, প্রতিপক্ষ বোলারের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক। কিন্তু মাঠের বাইরে সেই ‘কিং কোহলি’র হৃদয়ে রয়েছে এক কোমল অন্তরাবরণ, যেখানে আবেগের বড় একটা অংশ জুড়ে আছেন তাঁর মা। রোববার (১১ জানুয়ারি) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৩ রানের এক রাজকীয় ইনিংস খেলে ক্রিকেট ইতিহাসের বরপুত্রদের তালিকায় আরও এক ধাপ উপরে উঠে এসেছেন বিরাট কোহলি। আর এই বিশেষ অর্জনের দিনেই আবারও সামনে এল তাঁর জীবনের এক অদ্ভুত কিন্তু হৃদয়স্পর্শী অভ্যাসের কথা—কেন নিজের জেতা প্রতিটি ট্রফি নিজের কাছে না রেখে মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেন তিনি?
সাঙ্গাকারাকে টপকে এখন কেবল শচীনের অপেক্ষায়
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরম্যাট (Test, ODI, T20) মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় এতদিন দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন লঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অনবদ্য এই ইনিংসের পর ২৮,০৬৮ রান নিয়ে সাঙ্গাকারাকে (২৮,০২৬) পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন কোহলি। এই তালিকার শীর্ষে আছেন ‘মাস্টার ব্লাস্টার’ শচীন টেন্ডুলকার, যাঁর সংগ্রহ ৩৪,৩৫৭ রান। ক্রিকেটের এই All-time high রেকর্ডের পাতায় এখন কোহলির নাম জ্বলজ্বল করছে শচীনের ঠিক নিচেই।
সাফল্যের ভাগিদার মা: গুরুগ্রামের সেই চেনা ঠিকানা
ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বিরাট কোহলি ছোট-বড় যত ট্রফি বা ব্যক্তিগত অর্জন (Awards) পেয়েছেন, তার সিংহভাগেরই ঠিকানা এখন গুরুগ্রামে তাঁর মায়ের বাড়ি। সাধারণত খেলোয়াড়রা তাঁদের ট্রফি নিজেদের ড্রয়িংরুমে বা বিশেষ গ্যালারিতে সাজিয়ে রাখেন। কিন্তু কোহলি এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি মনে করেন, তাঁর এই দীর্ঘ এবং কণ্টকাকীর্ণ পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি ও অনুপ্রেরণা হলেন তাঁর মা।
কোহলি হাসিমুখে জানান, “মা ট্রফিগুলো আগলে রাখতে খুব ভালোবাসেন। যখনই আমি নতুন কোনো ট্রফি জিতি এবং সেটা তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিই, তাঁর চোখে-মুখে যে তৃপ্তি দেখি, তা আমার কাছে যেকোনো রেকর্ডের চেয়ে বড়। তিনি আমার পুরো যাত্রার (Journey) অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
স্বপ্নের মতো যাত্রা ও কঠোর পরিশ্রমের গল্প
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় দুই দশক ধরে আধিপত্য বিস্তার করা কোহলি নিজের এই অবস্থানকে ‘স্বপ্নের মতো’ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, “পেছন ফিরে তাকালে সবকিছু অবিশ্বাস্য মনে হয়। আমি সবসময় নিজের সামর্থ্য ও দক্ষতা (Skills) নিয়ে সচেতন ছিলাম। তবে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে আমাকে যে পরিমাণ পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আজকের এই রেকর্ডগুলো সেই সংগ্রামেরই ফসল।”
লক্ষ্য এখন কেবল বিশ্বকাপ
রেকর্ড গড়া বা ভাঙা নিয়ে বর্তমানে খুব একটা ভাবিত নন বিরাট। ব্যক্তিগত অর্জনগুলো মায়ের আলমারিতে জমা হলেও তাঁর দৃষ্টি এখন আরও বড় লক্ষ্যে। কোহলি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর বর্তমান মনোযোগ বা ফোকাস (Focus) শুধুই আসন্ন বিশ্বকাপ জয়ের দিকে। ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে দলের জন্য শিরোপা জেতাকেই তিনি এখন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সার্থকতা বলে মনে করছেন।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোহলি যেভাবে ফিটনেস ও ফর্ম বজায় রাখছেন, তাতে শচীনের রানসংখ্যা স্পর্শ করা অসম্ভব কিছু নয়। তবে সেই রেকর্ডের চেয়েও কোহলির এই ‘মা-কেন্দ্রিক’ আবেগ ভক্তদের মনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।