মনোনয়ন প্রত্যাহার ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। এই আসনে জোটের শরিক দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. আমিরুল ইসলাম বাছেত-এর মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়।
প্রথমে একই আসনে বিএনপি এবং জোটের শরিক বিজেপির প্রার্থী উভয়েই মনোনয়নপত্র দাখিল করায় স্থানীয় রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছিল। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর অনড় অবস্থানের কারণে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও ভোটারদের মাঝে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। এই প্রত্যাহারের ফলে সেই রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটল। এখন জোটের সকল শক্তি ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রিটার্নিং অফিসারের বক্তব্য
রিটার্নিং অফিসার ও ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, বিকেলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর তার আইনজীবী প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন এবং নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী তা গ্রহণ করা হয়েছে। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল ও ৩ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ে তা বৈধ ঘোষণা হলেও 'ব্যক্তিগত কারণ' দেখিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ১১ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত এই আবেদনটি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়।
আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা
ভোলা-১ আসনে আন্দালিভ রহমান পার্থ এর আগেও জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ২ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। বর্তমানে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তারা হলেন— জোটের প্রার্থী আন্দালিভ রহমান পার্থ, জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মাওলানা ওবায়েদ বিন মোস্তফা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মিজানুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের আইনুর রহমান জুয়েল এবং ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রার্থী মাওলানা আফরাফ আলী। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬৭ জন।