শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও ঘটনার বিবরণ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে চিটাগং রোড থেকে জবি রুটের ১৩নং বাসে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন—অ্যাকাউন্টিং বিভাগের মারুফ ইসলাম হিমাদ্র, ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর) বিভাগের মিতু আক্তার এবং দর্শন বিভাগের সামিয়া রহমান। তারা প্রত্যেকেই নিয়মিত স্টুডেন্ট বাস মিস করায় স্টাফ বাসে উঠেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, বাসে ওঠার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাদের পরিচয় জানতে চান এবং আইডি কার্ড দেখতে চান। দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া রহমান বলেন, “উনি আমার কার্ড দেখে বলেন—এর তো কোনো মেয়াদ নেই, এই কার্ড নিয়ে আর কখনো আমাদের বাসে উঠবেন না। আরেক আপুর আইডি কার্ড প্রায় পাঁচ মিনিট নিজের কাছে রেখে দেন।” অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ ইসলাম হিমাদ্রকে তিনি বলেন, “তুমি আর এই বাসে আসবা না, লোকাল বাসে ভাড়া দিয়ে আসবা। এই বাস তোমাদের জন্য না।”
ক্ষোভ প্রকাশ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সংকটের কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিকল্প বাসে উঠতে হয়। এ অবস্থায় একজন কর্মকর্তার এমন আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অপমানজনক। তারা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে দোষী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রশাসনের বক্তব্য বাসে উপস্থিত আরেকজন কর্মকর্তা ও সহকারী রেজিস্ট্রার হালিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আমরা প্রায়ই স্টুডেন্ট বাস মিস করা শিক্ষার্থীদের স্টাফ বাসে আসতে দেখি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে বলেন, “যেকোনো শিক্ষার্থীর প্রয়োজন আমাদের আগে বিবেচনায় নেওয়া উচিত, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। বাস মিস করলে কাজলা বা শনির আখড়া থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি আরও কষ্টকর হয়। আমাদের সবার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা। কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষক যদি এ ধরনের দুর্ব্যবহার করে থাকেন, তবে তার শাস্তি হওয়া উচিত। এমনকি আমার ক্ষেত্রেও হলে শাস্তি হওয়া উচিত।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা তাকে বিষয়টি জানিয়েছে এবং তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা হওয়ায় অভিযোগ পাওয়ার পর উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার আত্মপক্ষ সমর্থন এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা খন্দকার হাবিবুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না, সেটা নিশ্চিত করতেই আইডি কার্ড নিয়েছিলাম।” পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাওয়ার কথা বলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, “বাসে আরও অনেকে ছিলেন, চাইলে তাদের কাছে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে—আমি এমন কিছু বলেছি কি না।”