উন্নয়নকাজে দুর্নীতি এবং ৫০% বরাদ্দ ভাগাভাগি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নে সোমবার (১২ জানুয়ারি) স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সরকারি উন্নয়নকাজের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নকাজে সংসদ সদস্য (এমপি) নিজের জন্য ৫০ ভাগ অর্থ রেখে দেন।
তিনি আরও বলেন, এমপির 'চামচারা' রাখে আরও ২৫ ভাগ। এভাবেই মোট ৭৫ ভাগ অর্থ এখানেই শেষ হয়ে যায়। বাকি যে ২৫ ভাগ থাকে, তার মধ্যে ঠিকাদার কাজ করেন মাত্র ৫ ভাগ। অবশিষ্ট ২০ ভাগ নিজেদের পকেটে ঢোকান। তাই তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংসদ সদস্য নিজেই যদি দুর্নীতি করেন, তবে ঠিকাদার কেন চুরি করবে না?
হাসপাতালের দুর্নীতি ও এলাকার মানুষের প্রতি অঙ্গীকার
নির্বাচিত হলে এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যক্তিগতভাবে নজরদারির প্রতিশ্রুতি দেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হলে তিনি নিজ এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে দেখবেন যে, কেন ডাক্তাররা উপস্থিত থাকেন না এবং কীভাবে ওষুধ পাওয়া যায় না।
নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যক্তিগত জীবনের কথা উল্লেখ করে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, 'আমার বাবা নেই, ভাইবোন নেই। আত্মীয়স্বজন বিদেশে থাকে। আমি পাস করলেও তারা এসে লাইন দেবে না।' তিনি এলাকার সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ করে বলেন, 'আপনারা আমার সব। আপনারাই আমার কাছে আত্মীয়।'
উন্নয়নকাজ করতে না পারলে ফিরে না আসার ঘোষণা
মতবিনিময়কালে স্থানীয় জনগণ তাদের এলাকার প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের একটি তালিকা রুমিন ফারহানার হাতে তুলে দেন। এর জবাবে তিনি বলেন, 'আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করলে এসব উন্নয়ন কাজগুলো করে যাব। আর যদি না পারি তাহলে আপনাদের কাছে আর আসব না।' এভাবেই তিনি তার প্রতিশ্রুতি পালনে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।