দেশের মানুষের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে কর্মসংস্থান এখন শীর্ষে রয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জনগণ একটি স্পষ্ট, বাস্তবায়নযোগ্য ও কার্যকর কর্মসংস্থান পরিকল্পনা প্রত্যাশা করছে।
গোলটেবিল বৈঠকে উঠে আসা উদ্বেগ সোমবার (জানুয়ারি ১২, ২০২৬) ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস) যৌথভাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উঠে আসে। সংলাপে নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের নভেম্বর ২০২৫ সালের জনমত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৪০.৪ শতাংশ মানুষ এক বছর আগের তুলনায় আর্থিকভাবে ভালো অবস্থায় নেই। এর মধ্যে ২৭.৪ শতাংশ মানুষ আয় কমে যাওয়া ও সুযোগের অভাবকে এবং ১৭ শতাংশ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে প্রধানত দায়ী করেছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৭.২ শতাংশ মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে না।
শিক্ষিত বেকারত্ব ও শ্রমবাজারের বৈপরীত্য গোলটেবিল বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেন, দেশে শিক্ষিত বেকারত্বের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিডিজবস-এর প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর জানান, ২০১০ সালে শিক্ষিত বেকারত্বের হার ছিল ৪.৯ শতাংশ, যা ২০২২ সালে বেড়ে ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে অশিক্ষিত বেকারত্ব কমেছে। আকিজ-বশির গ্রুপের এইচআর ডিরেক্টর দিলরুবা এস খান শ্রমবাজারে একটি বৈপরীত্যের কথা তুলে ধরেন: একদিকে শিল্পকারখানাগুলো দক্ষ জনশক্তির অভাব অনুভব করছে, অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীরা কাজ পাচ্ছেন না। তিনি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে শিল্পের চাহিদার সমন্বয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিদেশে কর্মসংস্থান ও ফেরৎ আসা কর্মীদের সমস্যা শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতিবছর প্রায় ১১-১২ লাখ তরুণ কাজের জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। তবে দক্ষতার ঘাটতি ও কাজ না পাওয়ায় গত বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৪০ হাজার প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। বক্তারা বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির নিয়ন্ত্রণ জোরদারের আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিএনপির পক্ষ থেকে দক্ষতা উন্নয়ন, আইটি খাত সম্প্রসারণ এবং যুবঋণ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। জামায়াতে ইসলামী ড. হাফিজুর রহমান দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও কর সংস্কারের প্রস্তাব দেন। এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব মেধাভিত্তিক নিয়োগ, চাকরির নিরাপত্তা এবং কৃষি ও IT (আইটি) খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অন্য দলগুলো স্থানীয় বিনিয়োগ, শ্রমিক নিরাপত্তা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ প্রস্তাব করে।