ক্যাম্পাসে রাতভর বিক্ষোভ, অসুস্থ এক প্রার্থী জাতীয় নির্বাচনের আগে যেকোনো নির্বাচন স্থগিত রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত থেকে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা শুরু হয়। প্রজ্ঞাপনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এই সময় ছাত্রদল ভিসি ভবন ও গোলচত্বরে এবং ছাত্রশিবির শাকসু নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলন চলাকালে বিজয় ২৪ হলের ভিপি প্রার্থী হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং দ্রুত তাকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ বৈঠক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মধ্যরাতে শাকসু নির্বাচন কমিশনাররা শিক্ষার্থীদের সামনে এলেও তাদের শান্ত করতে ব্যর্থ হন। এরপর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমকে জানানো হয়। তিনি ক্যাম্পাসে এসে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এবং পরে প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন।
উপাচার্যের বক্তব্য ও শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান আলোচনায় উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, উপাচার্য বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং প্রজ্ঞাপনটি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জারি করেছে। উপাচার্য ক্যাম্পাসে ফিরলে এ বিষয়ে আপিল করা হবে এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীরা এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হয়ে এক দফা দাবিতে অনড় থাকেন। তারা স্পষ্ট করে জানতে চান, আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে 'হ্যাঁ' বা 'না' সিদ্ধান্ত।
বিকেল ৫টার আল্টিমেটাম একপর্যায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার উপউপাচার্যের উদ্দেশে জরুরি পরিস্থিতিতে উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে আগামীকাল সকাল ১০টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির অনুরোধ জানান। শিক্ষার্থীরাও এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন। এরপর উপউপাচার্য উপাচার্যকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের দাবির কথা জানালে, উপাচার্য জানান— মঙ্গলবার দুপুর ২টার পর তিনি নির্বাচন কমিশনে যেতে পারবেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানোর দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।