ভারতীয় পুষ্টিবিদ নামামি আগারওয়াল মুলাকে লিভারের জন্য 'সুপারহিরো' বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, লিভার সুস্থ রাখতে কোনো বিশেষ সাপ্লিমেন্ট বা 'ডিটক্স ড্রিংক'-এর ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত এই সাধারণ সবজিটি খেলেই ভালো উপকার পাওয়া যেতে পারে, বিশেষ করে যাদের ফ্যাটি লিভার বা অন্য কোনো লিভারের সমস্যার ঝুঁকি আছে।
ক্ষতিকর টক্সিন দূরীকরণে মুলা মুলার সবচেয়ে বড় গুণ হলো এটি লিভার থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিকভাবে লিভারকে পরিষ্কার রাখায় এটি লিভারের কাজের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। ফলে যারা দীর্ঘদিন ধরে লিভারের উপর চাপের মধ্যে আছেন, তাদের জন্য মুলা বিশেষ উপকারী হতে পারে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ কমানো মুলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এই উপাদানগুলো শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে, যা লিভারে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন তৈরি করতে পারে। এছাড়াও, মুলায় থাকা গ্লুকোসিনোলেটস নামের উপাদান লিভারের প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে এবং লিভারের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে এমন উপাদানের বিরুদ্ধে কাজ করে।
ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি হ্রাস লিভার থেকে নিঃসৃত পিত্তরস চর্বি হজমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুলা এই পিত্তরসের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীরে চর্বি হজম ভালোভাবে হয় এবং ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যার ঝুঁকি কমতে পারে।
খাবারের তালিকায় কীভাবে যোগ করবেন? খাবারের তালিকায় মুলাকে যোগ করা খুবই সহজ। এটি বিভিন্নভাবে খাওয়া যেতে পারে—
- সকালে খালি পেটে মুলার রস পান করা যেতে পারে।
- মুলা ভেজানো পানিও পান করা যেতে পারে।
- কাঁচা মুলা সালাদ বা রান্নার বিভিন্ন পদে ব্যবহার করা যায়।
মনে রাখবেন, মুলাই সব নয় তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, শুধু মুলা খেলেই সব লিভার সমস্যার সমাধান হবে না। লিভারকে সম্পূর্ণরূপে ভালো রাখতে হলে সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অপরিহার্য। তবুও বলা যায়, থালায় একটু বেশি মুলা যোগ করার এই ছোট অভ্যাসটি লিভারের জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে।