চিকিৎসা বোর্ডের সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড হুজাইফার চিকিৎসার বিষয়ে আলোচনায় বসে। বোর্ড তাকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। হাসপাতালের পরিচালক জানান, মস্তিষ্কের চাপ কমানোর জন্য অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ হুজাইফা আফনান কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের সন্তান। গত রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা গুলিতে সে গুরুতর আহত হয়। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে রাতে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং অস্ত্রোপচার করা হলেও গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।
হুজাইফার চাচার ভাষ্যমতে, শনিবার রাতেও এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি হচ্ছিল। রোববার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় হুজাইফা খেলতে বের হয়। সে যখন সড়কের কাছে যায়, ঠিক তখনই সীমান্তের ওপার থেকে আবার গোলাগুলি শুরু হয় এবং একটি গুলি তার মুখের পাশ দিয়ে ঢুকে মাথায় আঘাত করে।
সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি জান্তা বাহিনী এবং আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। মংডু টাউনশিপের আশেপাশে বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণ, মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণ অব্যাহত রয়েছে। স্থলভাগে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীরও সংঘর্ষ চলছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে সীমান্তের ওপারের বিস্ফোরণ ও গোলার আঘাতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী টেকনাফের গ্রামগুলো কেঁপে উঠছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।