শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ইনস্টিটিউট’ হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন ঘোষণা করেছে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
মূল দাবির প্রেক্ষাপট ও কমিটি সুপারিশ দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে চলে আসা নানা বৈষম্য নিরসনে দেশের ৪টি বিশেষায়িত সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। এই আন্দোলনের মুখে শিক্ষা উপদেষ্টার নির্দেশে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি সম্প্রতি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে শাবিপ্রবির অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট করার জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকার গঠিত কমিটির এমন সুস্পষ্ট সুপারিশ সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে কারিগরি অধিদপ্তর রহস্যজনকভাবে অনীহা দেখাচ্ছে। এই সুপারিশ আটকে থাকার জন্য তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করছেন। কর্তৃপক্ষকে দুই দিন আগে আলটিমেটাম দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শাটডাউনের আওতা ও শিক্ষার্থীদের হুঁশিয়ারি কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার থেকে কলেজের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এই শাটডাউনের আওতায় সকল প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করা হবে এবং প্রশাসনিক ভবনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক এবং এটি সরকার মনোনীত কমিটির সুপারিশ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
অন্যান্য কলেজের সংহতি উল্লেখ্য, সিলেট ছাড়াও ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরাও একই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন এবং তারা সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের এই শাটডাউন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছেন।