• আন্তর্জাতিক
  • ইরানে ১২ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত: নোবেল বিজয়ীর চাঞ্চল্যকর দাবি, ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে সরকার

ইরানে ১২ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত: নোবেল বিজয়ীর চাঞ্চল্যকর দাবি, ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে সরকার

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে 'লিথ্যাল উইপন' ব্যবহার করে দুই দিনে ১২ হাজার মানুষ নিহত, যোগাযোগ বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ গণহত্যাকাণ্ডের চিহ্ন মোছার চেষ্টা করছে—নোবেল বিজয়ী শিরিন এবাদির গুরুতর অভিযোগ।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরানে ১২ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত: নোবেল বিজয়ীর চাঞ্চল্যকর দাবি, ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে সরকার

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদি দাবি করেছেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নির্দেশে সরকারি বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে 'লিথ্যাল উইপন' বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে। এর ফলে ৮ ও ৯ জানুয়ারির দুই রাত্রিতেই অন্তত ১২ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে এবং এর চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

নোবেল বিজয়ীর দাবি ও অভিযোগ

ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদি দেশটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি 'গণহত্যা' চালানোর অভিযোগ এনেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এবাদি বলেছেন, সরকারি গোপন সূত্র, বিক্ষোভকারীদের পাঠানো তথ্য এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই ব্যাপক নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এটিকে ইরানের সমকালীন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ‘সংগঠিত হত্যাকাণ্ড’

ইনস্টাগ্রামে করা এক পোস্টে শিরিন এবাদি বর্তমান পরিস্থিতিকে 'সংগঠিত নীরবতা' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “ইন্টারনেট বন্ধ, যোগাযোগ অচল, সাক্ষীদের ভয় দেখানো এবং গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া মানে সরকার নীরবে হত্যাকাণ্ড চালাতে চায় এবং পরে তার চিহ্ন মুছে ফেলতে চায়।” তিনি এই ঘটনাকে 'সংগঠিত হত্যাকাণ্ড' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা ইন্টারনেট শাটডাউনের আড়ালে সরাসরি গুলি চালানোর মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে। তিনি শুধু মৃত্যুর সংখ্যাই নয়, সহিংসতার ধরনকেও উদ্বেগজনক বলেছেন।

আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান

শিরিন এবাদি অবিলম্বে ইন্টারনেট সেবা পুনর্বহাল, একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত পরিচালনা এবং এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। তার দাবি অনুসারে, কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ের তথ্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত ডেটা, পরিবার ও সাক্ষীদের বয়ান এবং উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা ও সরকারি সূত্রের তথ্য পর্যালোচনা করে এই মর্মান্তিক উপসংহারে পৌঁছেছে।

Tags: middle east internet shutdown nobel peace prize iran-protests shirin ebadi government crackdown lethal weapons mass killing