দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ফের আকাশচুম্বী। অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে এবার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে এই মূল্যবান ধাতু। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬২৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
নতুন দরে স্বর্ণের বাজার বিশ্লেষণ
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে নতুন এই দাম কার্যকর হবে। নতুন মূল্য তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। যা আগে ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।
অতিরিক্ত খরচ ও ভ্যাট বিধিমালা
ক্রেতাদের কেবল নির্ধারিত মূল্যে স্বর্ণ কিনলে চলবে না, এর সঙ্গে যুক্ত হবে সরকারি ও সাংগঠনিক বিধিমালা। বাজুস জানিয়েছে, গহনা কেনার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট (Value Added Tax) এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি (Making Charges) প্রদান করা বাধ্যতামূলক। তবে গহনার ডিজাইন এবং মানের ওপর ভিত্তি করে এই মজুরির তারতম্য হতে পারে।
ঘন ঘন দর পরিবর্তন ও বাজার পরিস্থিতি
চলতি বছরের মাত্র দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই এটি স্বর্ণের দামের সপ্তম দফা সমন্বয়। এই সাতবারের মধ্যে পাঁচবারই দাম বাড়ানো হয়েছে, আর কমানো হয়েছে মাত্র দুইবার। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৫ সাল ছিল স্বর্ণের বাজারের জন্য অত্যন্ত অস্থির একটি বছর। সেই বছর রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই ছিল দাম বৃদ্ধির খবর। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় মুদ্রার মান বিবেচনা করে বাজুস নিয়মিত এই সমন্বয় করে থাকে।
রুপার বাজারে স্থিতাবস্থা
স্বর্ণের দামে ব্যাপক অস্থিরতা থাকলেও দেশের বাজারে রুপার দাম বর্তমানে অপরিবর্তিত রয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী রুপার বর্তমান বাজার দর নিম্নরূপ:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিনিময় হার এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে, যা প্রতিনিয়ত এর Market Value-কে প্রভাবিত করছে। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই রেকর্ড দাম বর্তমানে অলঙ্কার কেনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।