চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আগামী ১৯ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হলেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারিক জবাবদিহিতা শুরু হবে।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা জজ মো. জাহিদুল হক এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে, মামলায় হাজতে থাকা সব আসামিকে সশরীরে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলার সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, নির্ধারিত দিনেই আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানি গ্রহণ করবেন। উল্লেখ্য, নিহত আইনজীবীর বাবা জামাল উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ঘটনার পটভূমি ও হত্যার বিবরণ ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সংঘর্ষের মধ্যেই প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে। নিহত আইনজীবীর বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধাদানসহ আরও পাঁচটি মামলা হয়।
অভিযোগপত্র ও অভিযুক্তের ভূমিকা পুলিশ তদন্ত শেষে চলতি বছর (২০২৫/২০২৬) ১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের উসকানি ও নির্দেশেই আইনজীবী সাইফুলকে হত্যা করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রিপন দাস ও চন্দন দাস কিরিচ ও বঁটি দিয়ে আইনজীবীর ঘাড়ে কোপ দেন। পরে অন্যান্য আসামিরা লাঠি, বাটাম, ইট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা সাইফুলের ওপর এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। আদালত গত ২৫ আগস্ট চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। বর্তমানে চিন্ময়সহ ২২ জন কারাগারে আটক রয়েছেন এবং ১৭ জন আসামি এখনো পলাতক।