• রাজনীতি
  • ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই লক্ষ্য: মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত আমির

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই লক্ষ্য: মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত আমির

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই লক্ষ্য: মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত আমির

মগবাজারে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের খ্রিস্টান প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ; সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান ও জোটের রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা।

বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সুসংহত করার লক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটের নেতৃত্বে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তির বিষয়টি।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জামায়াতের অবস্থান

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের উদ্দেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এখানে প্রতিটি নাগরিকের ‘Religious Freedom’ বা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। জামায়াতে ইসলামী সর্বদা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের (Justice) পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একটি আধুনিক ও শান্তিকামী রাষ্ট্রে ‘Minority Rights’ নিশ্চিত করা কোনো করুণা নয়, বরং এটি নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। জামায়াত এই অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন

মার্কিন শিক্ষাবিদ ও টিচার ফর পাস্তর ইন বাংলাদেশের সাবেক আইনপ্রণেতা ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিট বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ‘Interfaith Harmony’ বা আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের প্রশংসা করেন। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বর্তমান সামাজিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, এ ধরনের নিয়মিত ‘Interfaith Dialogue’ বা আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি দূর করা এবং সহযোগিতা জোরদার করা সম্ভব।

বৈঠকে অন্যান্যদের উপস্থিতি

১০ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল খ্রিস্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মার্থা দাশ, বাংলাদেশ ইভানজেলিক্যাল রিভাইভাল চার্চের চেয়ারম্যান রেভারেন্ড বনি বাড়ৈসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অন্যদিকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ এবং অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানসুর।

জোটের রাজনীতি ও জামায়াতের ‘সর্বোচ্চ উদারতা’

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু ও নির্বাচনি জোট নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “জোট নিয়ে বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সব অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের চেষ্টা করছি। জোটের শরিকদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সর্বোচ্চ উদারতা (Maximum Generosity) দেখাচ্ছে।”

তিনি আরও দাবি করেন যে, জোটভুক্ত সব দলের মধ্যে এখনো অত্যন্ত চমৎকার ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে এবং তারা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন শিক্ষাবিদ ও খ্রিস্টান প্রতিনিধিদের সঙ্গে জামায়াত আমিরের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবং দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে দলের ইমেজ বা ভাবমূর্তি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ (Strategic Move) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

Tags: bangladesh politics dhaka news minority rights religious harmony shafiqur rahman jamaat amir christian delegation gordon klingenschmitt interfaith dialogue alliance update