'আলফা মেল'-এর জয়, 'ওক কালচার' বাস্তব নয়
অভিনেতা ইমরান হাশমি মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিগুলো নিয়ে যে শোরগোল হয়, তা বলিউডের বক্স অফিসের বাস্তব চিত্র নয়। তিনি বলেন, “সারা বিশ্বে এখন একটা ‘ওক কালচার’ (Woke Culture) শুরু হয়েছে। যে অতি-পুরুষালি চরিত্রটিকে এখানে ‘টক্সিক’ বা বিষাক্ত বলা হচ্ছে, প্রেক্ষাগৃহে সেই চরিত্রটিই রাজত্ব করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল হলেও মানুষ কিন্তু এই ছবিগুলো দেখার জন্যই টিকিট কিনছে। আমাদের দেশ মূলত এমনই।”
তাঁর মতে, সন্দীপ রেড্ডি বঙ্গার ব্লকবাস্টার ছবি ‘অ্যানিম্যাল’ সফল হয়েছে কারণ এটি তথাকথিত ‘ওক ব্রিগেড’-এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। এই ছবির চরিত্রের সঙ্গে অনেক পুরুষ নিজেদের মেলাতে পেরেছিলেন বলেই এটি বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে।
নায়কদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রশ্ন
নারীকেন্দ্রিক সিনেমার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করলেও, ইন্ডাস্ট্রির পুরুষ অভিনেতাদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইমরান হাশমি। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, “আমাদের ইন্ডাস্ট্রির নায়করা খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। ‘দ্য ডার্টি পিকচার’-এর মতো ছবি আর ক’জন নায়ক করত? প্রতিটি গল্পেই তারা নিজেদের বিজয় দেখতে চায়। কিন্তু আমি সেসময় ওই কাজটি করেছিলাম কারণ আমার বিষয়বস্তু ভালো লেগেছিল।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মুখে বলা যত সহজ, নারীকেন্দ্রিক ছবিতে কাজ করা পুরুষ অভিনেতাদের জন্য ততটা সহজ নয়।
৭০ ও ৮০-এর দশকের ফর্মুলায় ফেরা
বর্তমান সিনেমার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ইমরান টেনে আনেন ৭০ ও ৮০-এর দশকের প্রসঙ্গ। তিনি মনে করেন, “আজ প্রেক্ষাগৃহে যা চলছে, তা খুব স্পষ্ট। দর্শকের এখন একজন অতি-পুরুষালি নায়ক, একজন ভয়ংকর খলনায়ক এবং সেই চেনা ছক বা ক্লিশেগুলোর প্রয়োজন।” অমিতাভ বচ্চন বা বিনোদ খান্নার ‘দিওয়ার’ বা ‘ত্রিশূল’-এর মতো ছবিগুলো এই ফর্মুলাতেই সফল হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।