• দেশজুড়ে
  • চট্টগ্রামে পোস্টাল ভোটে রেকর্ড: প্রায় ১ লাখ প্রবাসী ভোটারের সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচনে

চট্টগ্রামে পোস্টাল ভোটে রেকর্ড: প্রায় ১ লাখ প্রবাসী ভোটারের সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচনে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে প্রবাসীরাসহ ৯৫ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। ফল নির্ধারণে এই ভোট ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
চট্টগ্রামে পোস্টাল ভোটে রেকর্ড: প্রায় ১ লাখ প্রবাসী ভোটারের সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচনে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে অনুষ্ঠেয় গণভোটে চট্টগ্রামে প্রায় ৯৫ হাজারেরও বেশি ভোটার 'পোস্টাল ভোট বিডি' অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ভোট অনেক আসনে ফল নির্ধারণের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে যেখানে সর্বোচ্চ ১৪ হাজারের বেশি নিবন্ধন হয়েছে। এটি প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যার প্রভাব ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলেও দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে পোস্টাল ভোটের পরিসংখ্যান

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, এবারের সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮৫ হাজার ১২৫ জন। এর মধ্যে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন ৯৫ হাজার ২৪৬ জন ভোটার, যা মোট ভোটারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। আসনভিত্তিক হিসাবে, চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৩০১ জন এবং সর্বনিম্ন নিবন্ধন হয়েছে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে, যেখানে সংখ্যাটি ৩ হাজার ২০১। এই নিবন্ধিত ভোটাররা ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং গুরুত্ব

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ. জি. এম. নিয়াজ উদ্দিন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও তারা জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারতেন না। সরকার এবার তাদের সেই সুযোগ করে দিচ্ছে। তার মতে, প্রবাসী ভোটারদের সংখ্যা বিবেচনায় অনেক আসনে তারা 'ফ্যাক্টর' হয়ে দাঁড়াতে পারেন এবং ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের উদাহরণও টেনেছেন, যেখানে প্রবাসী ভোট ফলকে প্রভাবিত করে।

পোস্টাল ভোটের প্রক্রিয়া ও সময়সীমা

নিবন্ধিত ভোটাররা প্রতীক বরাদ্দের পর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রার্থী তালিকা দেখে ব্যালট পেপারে টিক চিহ্ন দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। পরদিনই ডাকযোগে এই ব্যালট ফেরত পাঠানো যাবে। তবে, ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর পৌঁছানো কোনো ভোট গণনায় ধরা হবে না। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের পাশাপাশি এবারই প্রথম প্রবাসীরা এই সুযোগ পাচ্ছেন।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতের চ্যালেঞ্জ

পোস্টাল ব্যালটে ভোটের উদ্যোগটি প্রশংসনীয় হলেও এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অধ্যাপক নিয়াজ উদ্দিন গুরুত্ব দিয়ে বলেন, পোস্টাল ব্যালট ভোটারের কাছে পৌঁছানো এবং ভোটার সঠিকভাবে ভোট দিতে পারছেন কি না, তা নির্বাচন কমিশনকে নজরদারি করতে হবে। অন্যথায় এই ইতিবাচক উদ্যোগটি ভোটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ইসি এই ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য ভোটারদের ওপরও দায়িত্ব অর্পণ করেছে এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

গণভোটে পোস্টাল ভোটের ভূমিকা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত ভোটাররা এই গণভোটেও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের ধারণা, গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফলেও পোস্টাল ব্যালটের ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে যে আসনগুলোতে পোস্টাল ভোটার বেশি, সেখানে এই ভোট ফলাফলকে প্রভাবিত করার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।

Tags: national election referendum chittagong expatriate voters postal vote postle vote bd app