সন্দেহজনক গতিবিধি ও পুলিশের তৎপরতা
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পুলিশের নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশিতে ধরা পড়েছে দুই সশস্ত্র যুবক। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের লাল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে একটি মোটরসাইকেল থেকে একাধিক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত দুই যুবকই পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠনের উদ্দেশ্যেই তারা এই অস্ত্র বহন করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
তল্লাশিতে যা উদ্ধার হলো
জেলা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট হাসানুল বান্না জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে লাল ব্রিজ এলাকার পশুহাট যাত্রী ছাউনির সামনে নিয়মিত ডিউটি পালন করছিল ট্রাফিক পুলিশের একটি দল। এ সময় চুয়াডাঙ্গার দিক থেকে আসা একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন (On-Test) মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। দুই আরোহীর কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়ায় সন্দেহ দানা বাঁধে।
প্রাথমিকভাবে দেহ তল্লাশি করে তাদের পকেট থেকে একটি কাটার এবং বিশেষ কায়দায় দড়ি দিয়ে বাঁধা একটি সুইচ গিয়ার (Switch Gear) চাকু উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সন্দেহ আরও জোরালো হলে মোটরসাইকেলের সিট খোলা হয়। সেখান থেকে একটি ধারালো চাপাতি ও একটি স্টিলের রড জব্দ করে পুলিশ।
আটককৃতদের পরিচয়
আটককৃত দুই ব্যক্তি হলেন—কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের আরজুল হকের ছেলে ফরজ আলী এবং একই উপজেলার কুর্শা গ্রামের তানিস আলীর ছেলে রাজন আলী। কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তারা এই রেজিস্ট্রেশনবিহীন বাইকটি নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করেছিল।
আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশের ভাষ্য
ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ওই দুই যুবককে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। অস্ত্রগুলো কেন এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাঈল এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। নিয়মিত এই তল্লাশি অভিযান শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।