• আন্তর্জাতিক
  • ভেনেজুয়েলার তেল পাচার: ক্যারিবীয়ান সাগরে আরও একটি ট্যাংকার জব্দ করলো যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার তেল পাচার: ক্যারিবীয়ান সাগরে আরও একটি ট্যাংকার জব্দ করলো যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতার বৈঠকের আগে তেলবাহী ট্যাংকারটি জব্দ করা হয়। এটি গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জব্দ হওয়া ষষ্ঠ জাহাজ।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ভেনেজুয়েলার তেল পাচার: ক্যারিবীয়ান সাগরে আরও একটি ট্যাংকার জব্দ করলো যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলা-সংশ্লিষ্ট আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর বৈঠকের ঠিক আগে এই ট্যাংকারটি জব্দ করা হয়। ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জব্দ করা ষষ্ঠ জাহাজ, যার বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে।

ভেনেজুয়েলা-সংশ্লিষ্ট আরেকটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগ মুহূর্তে ট্যাংকারটি জব্দ করার খবর বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

ট্যাংকার জব্দ অভিযানের বিস্তারিত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ক্যারিবীয় সাগরে এই জব্দ অভিযান চালানো হয়েছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের অভিযোগে এটি জব্দ করা ষষ্ঠ জাহাজ। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড ভোররাতের এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, মোটর/ট্যাংকার ‘ভেরোনিকা’ কোনো বাধা ছাড়াই আটক করা হয়েছে। তাদের দাবি, জাহাজটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজের ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষিত ‘কোয়ারেন্টাইন’ অমান্য করে চলাচল করছিল। সাউদার্ন কমান্ড এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল বের করতে হলে তা অবশ্যই যথাযথ ও আইনসম্মত সমন্বয়ের মাধ্যমে হতে হবে।

‘ভেরোনিকা’ ট্যাংকারের তথ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা নীতি

শিপিং নথি এবং ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, গায়ানা-নিবন্ধিত আফ্রাম্যাক্স ট্যাংকার ‘ভেরোনিকা’ জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলার জলসীমা থেকে খালি অবস্থায় রওনা দিয়েছিল, কিন্তু সম্প্রতি এটি অন্য জাহাজগুলোর মতো আর ফিরে আসেনি। ট্রাম্প প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা নীতির অংশ হিসেবেই এই জব্দ অভিযান শুরু হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। ট্রাম্প পরবর্তীতে ঘোষণা দেন যে, তিনি ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ চান এবং দেশটির জরাজীর্ণ তেল শিল্প পুনর্গঠনে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা রয়েছে।

‘শ্যাডো ফ্লিট’ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এদিকে একাধিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন আরও বহু ভেনেজুয়েলা-সংযুক্ত ট্যাংকার জব্দের জন্য আদালতের পরোয়ানা চেয়েছে। লক্ষ্যবস্তু জাহাজগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত বা তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ (Shadow Fleet)-এর অংশ, যা ইরান, রাশিয়া বা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহনের সময় তাদের উৎস গোপন করে। পানামা, কুক আইল্যান্ডস এবং গায়ানার সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জব্দ হওয়া বেশিরভাগ জাহাজ ভুয়া পতাকা ব্যবহার করছিল বা তাদের নিবন্ধন আগেই বাতিল হয়েছিল। এর আগে, গত সপ্তাহে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ ধাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র একটি রুশ পতাকাবাহী তেল ট্যাংকারও জব্দ করেছিল। দেশটির অভিযোগ ছিল যে, এটি একটি রুশ সাবমেরিনকে ছায়া দিচ্ছিল। মস্কো অবশ্য এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।

Tags: donald trump us sanctions venezuela caribbean sea oil tanker shadow fleet maritime seizure