মাঘের শুরুতেই ঝিরঝিরে ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে জেঁকে বসতে শুরু করেছে হাড়কাঁপানো শীত। দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলায় ইতোমধ্যে বইতে শুরু করেছে শৈত্যপ্রবাহ (Cold Wave)। আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, এই শৈত্যপ্রবাহের পরিধি আগামী কয়েক দিনে দেশের আরও নতুন নতুন এলাকায় বিস্তার লাভ করতে পারে। মূলত হিমালয় পাদদেশীয় উচ্চচাপ বলয় এবং বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রার এই নাটকীয় পতন ঘটছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ পূর্বাভাসে আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা ও বায়ুমণ্ডলের প্রভাব
আবহাওয়া অফিসের ‘Synoptic Condition’ বা সামগ্রিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উপমহাদেশের উচ্চচাপ বলয়ের (Sub-continental High-Pressure Ridge) বর্ধিতাংশ বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। অন্যদিকে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বায়ুমণ্ডলীয় বিন্যাসের কারণে উত্তর দিক থেকে আসা শীতল হাওয়া বাংলাদেশে সরাসরি প্রবেশ করছে, যা শীতের তীব্রতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শৈত্যপ্রবাহের কবলে উত্তর-পশ্চিম জনপদ
আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি কেবল অব্যাহতই থাকবে না, বরং এর প্রভাব পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা দেখা দিতে পারে, যা সড়ক ও নৌপথে ‘Visibility’ বা দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিতে পারে।
আগামী ৫ দিনের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি
শনিবার (১৭ জানুয়ারি): সারাদেশের আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে হালকা কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই দিনে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি): কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকবে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা আবার কিছুটা কমতে শুরু করবে। এটি মূলত উত্তর দিক থেকে আসা হিমশীতল বাতাসের তীব্রতার কারণে হবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি): আবহাওয়ার বিশেষ কোনো পরিবর্তন নেই। সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে এবং তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি): সপ্তাহের এই দিনে নদী অববাহিকায় আবারও ঘন কুয়াশা (Dense Fog) দেখা দিতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় একই থাকলেও বাতাসের আর্দ্রতা বা Humidity-র কারণে শীতের অনুভূতি তীব্র হতে পারে।
তীব্র শীতের সতর্কবার্তা
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী পাঁচ দিনের শেষভাগে অর্থাৎ সপ্তাহের শেষের দিকে রাত ও দিনের তাপমাত্রা পুনরায় উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে। ফলে যারা দীর্ঘ ভ্রমণে বের হবেন কিংবা নদীপথে যাতায়াত করবেন, তাদের ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে শীতজনিত রোগবালাই থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।