• ব্যবসায়
  • মাঘের শীতেও মিরকাদিমে ইলিশের ঝিলিক, আগুন দামে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের

মাঘের শীতেও মিরকাদিমে ইলিশের ঝিলিক, আগুন দামে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
মাঘের শীতেও মিরকাদিমে ইলিশের ঝিলিক, আগুন দামে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের

মুন্সীগঞ্জের প্রাচীন আড়তে ভোরের হাঁকডাকে কোটি টাকার মাছ বিক্রি হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রুপালি ইলিশ; বাজার সিন্ডিকেট নাকি সরবরাহ সংকট—বিতর্ক তুঙ্গে।

মাঘের হাড়কাঁপানো শীত আর চারদিকের ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করেই মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচীন মিরকাদিম মাছের আড়ত এখন সরগরম। ভোরের আলো ফোটার আগেই রুপালি ইলিশের ঝিলিক আর পাইকারি বিক্রেতাদের গগনচুম্বী হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে ওঠে এই মৎস্য বন্দর। তবে বাজারের এই জৌলুস সাধারণ ক্রেতাদের মুখে হাসির বদলে উদ্বেগের রেখা ফুটিয়ে তুলছে। জাতীয় মাছ ইলিশসহ প্রায় সব ধরণের দেশি মাছের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

ইলিশের আকাশছোঁয়া দাম ও বাজার পরিস্থিতি

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ছুটির দিনে মিরকাদিম আড়তে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু দামের খতিয়ান বলছে অন্য কথা। বর্তমানে এই আড়তে এক কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। মাঝারি আকারের (৫০০-৭০০ গ্রাম) ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। বছরের এই সময়ে ইলিশের এমন অস্বাভাবিক Market Value আগে কখনো দেখা যায়নি বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

অন্যান্য মাছের বাজারদর

ইলিশের পাশাপাশি আড়তে উঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির মিঠা পানির ও সামুদ্রিক মাছ। তবে সেখানেও স্বস্তির খবর নেই। আড়ত ঘুরে পাওয়া দামের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

নদীর পাঙাশ: প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা (চাষের পাঙাশ ১৫০-২০০ টাকা)।

দেশি বোয়াল: ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা।

নদীর আইড়: ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

দেশি শিং ও কৈ: ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি।

রুই ও কাতল: নদীর মাছ ৬০০-৭০০ টাকা, চাষের মাছ ৩০০-৫০০ টাকা।

চিতল ও কোরাল: ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি।

চিংড়ি (গলদা): ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি।

সিন্ডিকেট বনাম সরবরাহ সংকট: পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

মাছের অস্বাভাবিক দামের জন্য সাধারণ ক্রেতারা সরাসরি বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং ‘অদৃশ্য’ সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে একদল অসাধু ব্যবসায়ী যোগসাজশ করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে আড়তদারদের দাবি ভিন্ন। মুন্সীগঞ্জ মিরকাদিম মৎস্য আড়ত সমিতির সভাপতি আল হেলাল রয়েল বলেন, "পরিবেশ দূষণ এবং নদ-নদীতে নাব্য সংকটের কারণে এখন আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার মাছের বংশবিস্তারে বড় ধরণের ক্ষতি করছে। ফলে Supply Chain-এ বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে দামে।"

অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহ্য

মিরকাদিম আড়ত কেবল একটি বাজার নয়, এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির একটি অন্যতম চালিকাশক্তি। মোট ৪৩টি আড়ত নিয়ে গঠিত এই মৎস্য বন্দরে প্রতিদিন মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ১ কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হয়। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ লেনদেন সত্ত্বেও সাধারণ ভোক্তার পাতে ইলিশসহ সুস্বাদু মাছ তোলা এখন কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নাব্য সংকট দূর করা এবং বাজার তদারকি জোরদার না করলে এই ঐতিহ্যবাহী আড়ত ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

Tags: price hike river fish fish market hilsa price munshiganj news mirkadim market market syndicate daily bazaar