নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদকের বিশাল নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উপজেলার লাভড়াপাড়া এলাকায় একটি পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্যসহ তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও নিষিদ্ধ ফেনসিডিল।
সাফল্যের নেপথ্যে ‘ইন্টেলিজেন্স-লেড’ অপারেশন
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জের লাভড়াপাড়া এলাকায় বড় একটি মাদকের চালান মজুত করা হয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে (Intelligence-based information) রূপগঞ্জ উপজেলা সেনাক্যাম্পের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। এলাকাটি ঘিরে ফেলে দিনব্যাপী তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে ১০৮ কেজি গাঁজা এবং ৯ হাজার ৫১৬ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য (Market Value) প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে আভিযানিক দল।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও নেপথ্য কাহিনি
অভিযান চলাকালীন মাদক পাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন—লাভড়াপাড়া এলাকার আমানুল্লাহর ছেলে তানজিদ ও আলাউদ্দিনের ছেলে রিফাত এবং পাড়াগাঁও এলাকার রোকন উদ্দিনের ছেলে রিদুল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই বিশাল মাদক চালানের সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে, এই যুবকরা একটি বড় মাদক সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করছিল, যারা দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে।
সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য
রূপগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন রূপগঞ্জ উপজেলা সেনাক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার শরীফ। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা একটি সুনির্দিষ্ট পয়েন্টে এই ‘Joint Operation’ পরিচালনা করি এবং রেকর্ড পরিমাণ মাদক উদ্ধার করতে সক্ষম হই।”
কমান্ডার শরীফ আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের ইতিমধ্যেই রূপগঞ্জ থানা পুলিশের (Law Enforcement Agency) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং এই চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
চলবে মাদকবিরোধী অভিযান
রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরাতে এবং যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে সেনাবাহিনীর এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, অপরাধীদের নির্মূল এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান (Sudden Raid) ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।