ভুল চিকিৎসা ও অবহেলা:
অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড–১৯ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। সেই সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা জানতে পারেন যে খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। অথচ এর আগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাড়পত্রে তাঁকে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার জন্য মেথোট্রেক্সেট (Methotrexate) নামের একটি ট্যাবলেট নিয়মিত সেবনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ভর্তি থাকা অবস্থাতেও তাঁকে এই ওষুধ খাওয়ানো হয়। বোর্ড অবিলম্বে এই ওষুধ বন্ধ করে দেয়।
'স্লো পয়জন' হিসেবে মেথোট্রেক্সেট:
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী আরও বলেন, খালেদা জিয়ার লিভারের অসুখ নির্ণয় করা খুবই সহজ ছিল। মেথোট্রেক্সেট সেবনের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্তে লিভার ফাংশন পরীক্ষা করা এবং অস্বাভাবিক ফল পাওয়া গেলে ওষুধটি বন্ধ করে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে লিভারের অবস্থা যাচাই করা আবশ্যক ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ আসার পরেও সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকেরা একটি আলট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি এবং মেথোট্রেক্সেট (এমটিএক্স) বন্ধ করেননি। এটিকে তিনি খালেদা জিয়ার ফ্যাটি লিভার রোগ বাড়িয়ে লিভার সিরোসিসে নিয়ে যাওয়া 'স্লো পয়জন' হিসেবে উল্লেখ করেন।
'ইচ্ছাকৃত অবহেলা' এবং তদন্তের দাবি:
এফ এম সিদ্দিকী দৃঢ়ভাবে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এ ধরনের অবহেলা এবং লিভার ফাংশনের দ্রুত অবনতি তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ এবং 'উইলফুল নেগলিজেন্স' বা ইচ্ছাকৃত অবহেলা। এটি তাঁকে হত্যার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি আইনগতভাবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে এই তিনটি বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানান:
১. সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা কারা ছিলেন এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তাঁরা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় তাঁদের ওপর বর্তায় কি না। ২. ভর্তিকালীন সময়ে কোন কোন চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না। ৩. মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা চলাকালে খালেদা জিয়া আইনজীবীর মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন—সে ক্ষেত্রে কেন তা হয়নি এবং কারা এতে বাধা দিয়েছিল?
শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।