• আন্তর্জাতিক
  • ট্রাম্প একজন ‘ক্রিমিনাল’, ইরানে রক্তপাতের নেপথ্যে ইসরায়েল-আমেরিকা: বিস্ফোরক আলী খামেনি

ট্রাম্প একজন ‘ক্রিমিনাল’, ইরানে রক্তপাতের নেপথ্যে ইসরায়েল-আমেরিকা: বিস্ফোরক আলী খামেনি

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ট্রাম্প একজন ‘ক্রিমিনাল’, ইরানে রক্তপাতের নেপথ্যে ইসরায়েল-আমেরিকা: বিস্ফোরক আলী খামেনি

দেশজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জন্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও জায়নবাদী শক্তিকে দায়ী করে কঠোর বার্তা দিলেন তেহরানের শীর্ষ নেতা।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে এবার সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ক্রিমিনাল’ বা অপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালীন ব্যাপক প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি এবং অপবাদ আরোপের জন্য ট্রাম্পকেই প্রধানত দায়ী মনে করে তেহরান।

ব্যক্তিগতভাবে জড়িত ট্রাম্প: খামেনির গুরুতর অভিযোগ

ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খামেনির উদ্ধৃতি অনুসারে, এবারের ইরান-বিরোধী বিক্ষোভটি পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন ছিল। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি সম্পৃক্ততা। খামেনির দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল উস্কানি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং ব্যক্তিগতভাবে এই অস্থিরতা উস্কে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।

তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল সরাসরি এই সহিংসতার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে। খামেনি বলেন, “বিদেশি-সম্পর্কিত ব্যক্তিরাই ইরানে ব্যাপক রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী। জায়নবাদী ইসরায়েল এবং ওয়াশিংটনের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে এবং বিপুল রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করেছে, যা গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে।”

অস্থিতিশীলতার নেপথ্যে ‘ফরেন পাওয়ার’ ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ

ইরানি কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করে আসছে যে, তাদের দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিশেষ করে ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—ইরানের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করতে ‘Ground Operation’ বা স্থলভাগে নাশকতা পরিচালনা করছে। তেহরানের দাবি, সাধারণ মানুষের দাবিকে পুঁজি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অস্থিতিশীলতা উস্কে দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই কঠোর অবস্থান মূলত ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের বিদ্যমান ‘Diplomatic Tension’ বা কূটনৈতিক টানাপড়েনকে আরও বাড়িয়ে দেবে। ইরান সরকার মনে করছে, এটি কেবল অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ‘Regime Change’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের অপচেষ্টা।

বিক্ষোভের সূত্রপাত ও বর্তমান পরিস্থিতি

গত ডিসেম্বর মাসে ইরানে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তবে দ্রুতই সেই অর্থনৈতিক আন্দোলন রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে পরিচালিত হতে শুরু করে। বিক্ষোভ দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনীর অ্যাকশনের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘর্ষে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান সরকারের দাবি অনুযায়ী, অন্তত শতাধিক ‘Security Forces’ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। বিক্ষোভের জেরে ব্যাহত হয়েছে দেশটির ইন্টারনেট ব্যবস্থা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সংকট

খামেনির এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনকে সরাসরি ‘ক্রিমিনাল’ হিসেবে চিহ্নিত করার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ‘Geopolitics’ বা ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, এই চরম বৈরিতার ফলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক চুক্তি বা অন্যান্য বাণিজ্যিক ইস্যুতে সমঝোতার পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়ল।