চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর (Joint Forces) এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ (Ammunition) দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের হোরারবাগ এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘চেয়ারম্যান বাড়িতে’ এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেফতারকৃতরা প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ায় এই ঘটনা পুরো জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পলায়নচেষ্টা ও নাটকীয় গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃতরা হলেন ৫১ বছর বয়সী সালাউদ্দিন রুমি এবং ৫৬ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম বাপ্পী। তারা ওই এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান মৃত আবুল বশরের ছেলে এবং সারোয়াতলী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বেলাল হোসেনের আপন ভাই।
বোয়ালখালী সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর রাসেল প্রধান সংবাদমাধ্যমকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল শুক্রবার রাতে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দুই ভাই দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে সেনাসদস্যদের বিচক্ষণতা ও ক্ষিপ্রতায় তাদের ধাওয়া করে পানি থেকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
লুকানো আস্তানা থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধার
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাড়িতে অস্ত্র মজুত রাখার কথা স্বীকার করেন। এরপর ওই বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালায় সেনাবাহিনী। অপরাধীরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে পরিত্যক্ত বাড়ির সিলিং, আলমারির গোপন কুঠুরি, গোয়ালঘরের খড় এবং একটি নির্মাণাধীন ভবনের বালির নিচে অস্ত্রগুলো লুকিয়ে রেখেছিল।
অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে:
৪টি বিদেশি শটগান (Foreign Shotgun)
২টি অত্যাধুনিক পিস্তল (Pistol)
১৩ রাউন্ড তাজা গুলি
অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কলকব্জা
দীর্ঘদিনের অস্ত্র ব্যবসা ও অপরাধমূলক রেকর্ড
সেনা কর্মকর্তা মেজর রাসেল প্রধান আরও জানান, গ্রেফতারকৃত দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা এবং নিজস্ব পদ্ধতিতে অস্ত্র তৈরির (Arms Manufacturing) সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাদের এই ‘অপারেশনাল প্রসিডিউর’ ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। পুলিশি রেকর্ড অনুযায়ী, সালাউদ্দিন রুমির বিরুদ্ধে আগে থেকেই ৬টি এবং সাইফুল ইসলাম বাপ্পীর বিরুদ্ধে ৪টি বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। এই গ্রেফতারের ফলে ওই এলাকার একটি বড় অস্ত্র সিন্ডিকেট দুর্বল হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক অবস্থান
গ্রেফতারকৃতদের উদ্ধারকৃত বিপুল অস্ত্রসহ শনিবার সকালে বোয়ালখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অস্ত্র আইনে (Arms Act) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষায় এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের নির্মূল করতে এ ধরনের ‘Tactical Operation’ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা প্রভাবশালী এই অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে সেনাবাহিনীর সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।