** ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গোপন আঁতাত**
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের কয়েক মাস আগে থেকেই দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলোর (Diosdado Cabello) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন আঁতাতের (Secret Contact) তথ্য ফাঁস হয়েছে। অভিযানের পরেও ওয়াশিংটন সেই যোগাযোগ বজায় রেখেছে বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের (Reuters) এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কাবেলো দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
যোগাযোগের কৌশল ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে:
আলোচনা কৌশল: ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাবেলোর সঙ্গে সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করেন।
সতর্ক বার্তা: ওই সময় কাবেলোর নিয়ন্ত্রণাধীন নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যেন বিরোধীদের লক্ষ্য করে সহিংসতায় না নামে, তা নিয়ে তাকে সতর্ক (Warned) করে যুক্তরাষ্ট্র।
কাবেলোর নিয়ন্ত্রণ: ৩ জানুয়ারির অভিযানের পর থেকে ভেনেজুয়েলার গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর ওপর মূলত কাবেলোরই নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
মাদুরো ও কাবেলোর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের মাদক পাচার (Drug Trafficking) সংক্রান্ত অভিযোগপত্রকে মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সেই একই অভিযোগপত্রে কাবেলোর নামও রয়েছে। তবে মাদুরোকে আটক করার অভিযানের সময় কাবেলোকে আটক করা হয়নি।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকেই এই যোগাযোগ চলছিল এবং মাদুরোকে আটকের আগের কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও কাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত উদ্বেগ: বিশৃঙ্খলা এড়ানো
রয়টার্স লিখেছে, আগে কখনো প্রকাশ না হওয়া এই যোগাযোগ ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি: যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, কাবেলো যদি তার নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনী মাঠে নামান, তাহলে দেশটিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা (Chaos) সৃষ্টি হতে পারে এবং অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
কাবেলোর অবস্থান ও মানবাধিকারের অভিযোগ
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দমন-পীড়নের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র কাবেলোকে ধরিয়ে দিতে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করলেও কাবেলো এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে কাবেলো যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা মেনে চলছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।