ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো সম্প্রতি তার ২০২৫ সালে প্রাপ্ত নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। এ ঘটনার কয়েক দিন পর নোবেল ফাউন্ডেশন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, নোবেল পুরস্কার কাউকে উপহার হিসেবে দেওয়া, ভাগ করা বা হস্তান্তর করা যায় না; এমনকি প্রতীকীভাবেও এটি সম্ভব নয়।
ফাউন্ডেশনের কঠোর বার্তা নোবেল ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “একটি পুরস্কার প্রতীকীভাবেও অন্যের কাছে হস্তান্তর বা বিতরণ করা যাবে না।” তারা আরও উল্লেখ করে যে, নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা এবং এর প্রশাসনিক কাঠামো রক্ষা করাই ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী, মানবজাতির সর্বাধিক উপকারে অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেই কেবল এই পুরস্কার দেওয়া হয়, এবং এতে পুরস্কার প্রদানের নিয়মাবলী স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
কেন পদকটি ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছিল? হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মারিয়া করিনা মাচাদো পদকটি তাকে উপহার দেন। মাচাদো তখন জানান, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার পক্ষে ট্রাম্পের 'অনন্য প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি' হিসেবেই তিনি এই পদকটি দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' এক পোস্টে মাচাদোর কাছ থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে এটিকে 'পারস্পরিক সম্মানের এক অসাধারণ নিদর্শন' বলে উল্লেখ করেন।
নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউটের ব্যাখ্যা নোবেল কমিটি এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট পূর্বেই জানিয়েছিল যে, নোবেল পুরস্কার বাতিল বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না। মাচাদোর পদক উপহার দেওয়ার পর ইনস্টিটিউট আরও স্পষ্ট করে জানায়, পুরস্কারটি অবিচ্ছেদ্যভাবে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই যুক্ত থাকে, যিনি বা যারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।