• জাতীয়
  • 'মব' শব্দ ব্যবহারে সতর্ক করলেন তাজুল, 'হুমকি' বলছেন রাজনীতিকরা

'মব' শব্দ ব্যবহারে সতর্ক করলেন তাজুল, 'হুমকি' বলছেন রাজনীতিকরা

চিফ প্রসিকিউটরের মতে 'মব' শব্দটি জুলাই অভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে রাজনীতিক ও বক্তারা বলছেন, তিনি 'হুমকি' দিচ্ছেন এবং মবতন্ত্রের বাস্তবতাকে অস্বীকার করছেন।

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
'মব' শব্দ ব্যবহারে সতর্ক করলেন তাজুল, 'হুমকি' বলছেন রাজনীতিকরা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সম্প্রতি এক সংলাপে 'মব' (mob) শব্দটি ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করেছেন। তার মতে, এই শব্দটি জুলাই অভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মানসিকতা থেকে আসে। তবে তার এমন বক্তব্যকে সংলাপের অন্যান্য বক্তা ও রাজনীতিকরা 'হুমকি' হিসেবে দেখছেন।

'মব' নিয়ে তাজুল ইসলামের সতর্কতা

রোববার ঢাকায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত 'বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন' শীর্ষক এক নীতি সংলাপে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম 'মব' শব্দটি ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি মন্তব্য করেন, গণভবনের পতনের যে আন্দোলন, তার সঙ্গে রাস্তায় ছিনতাই বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনাকে এক করে দেখা ঠিক নয়। তাজুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, গণভবনের পতনের বিপ্লবের অর্জনকে বারবার 'মব' শব্দটি ব্যবহার করে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা কোনো মহল থেকে করা হলে তাদের সংযত হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, এই শব্দটি প্রয়োগের আগে খুব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

বক্তাদের মন্তব্যে 'মবতন্ত্রের' উত্থান

সংলাপের সূচনা বক্তব্যে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি বিচার বিভাগে 'আইনের শাসন' নয়, বরং 'মবোক্রেসির রুল' (mobocracy) দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রায়ালের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, তথাকথিত তৌহিদি জনতা যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয় এবং দোষীদের শাস্তি দিতে গড়িমসি হয়, তবে আইনের শাসন নিশ্চিত করা কঠিন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীও তার বক্তব্যে 'মব'-কে ইঙ্গিত করে বলেন, ইনজাস্টিসকে অ্যালাউ করলে তা বাউন্স ব্যাক করবেই। তিনি বলেন, মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, এখন মব সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং দেশকে 'খেয়ে ফেলতে পারে'।

তাজুলের বক্তব্যকে 'হুমকি' হিসেবে দেখা

তাজুল ইসলামের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর অন্যান্য আলোচকরা এর কড়া সমালোচনা করেন। বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, চিফ প্রসিকিউটর মবকে মব বলতে বারণ করে গেলেন, কিন্তু এটি যে সত্যি তা অস্বীকার করতে পারলেন না বা আইনের অনুশাসন কায়েম আছে, বিচার হচ্ছে—এমন নিশ্চয়তাও দিতে পারলেন না। অন্যদিকে, সিপিবি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স সরাসরি মন্তব্য করেন, তার কাছে মনে হয়েছে তাজুল ইসলাম একটু 'থ্রেটই' করলেন। বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজও চিফ প্রসিকিউটরের এই বক্তব্যকে 'হুমকি' হিসেবেই দেখেন।

Tags: bangladesh politics law and order mobocracy july coup tazul islam mob cgs dialogue