শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণা সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিটির মুখপাত্র আব্দুর রহমান রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে এই নতুন কর্মসূচির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের চূড়ান্ত আলটিমেটামের অংশ হিসেবে রাজধানী জুড়ে চারটি স্থায়ী অধ্যাদেশ মঞ্চ স্থাপন করা হবে। এর পাশাপাশি, একটি ট্রাকভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ সাতটি ক্যাম্পাসে ঘুরে নির্ধারিত সময়ে জনসভা করবে।
কোথায়, কখন হবে মঞ্চ ও জমায়েত শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুদানে নির্মিত এই চারটি স্থায়ী মঞ্চ থাকবে— ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজকে কেন্দ্র করে এক বা দুটি; বাঙলা কলেজের সামনে একটি; কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ মিলিয়ে একটি; এবং তিতুমীর কলেজের সামনে একটি। এই মঞ্চগুলোতে সংকট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ছাড়াও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চলতে পারে।
ভ্রাম্যমাণ মঞ্চের রোডম্যাপ ও চূড়ান্ত আলটিমেটাম মুখপাত্র আব্দুর রহমান জানান, ভ্রাম্যমাণ অধ্যাদেশ মঞ্চটি আজ ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সাতটি কলেজের প্রতিটি ক্যাম্পাসে পালাক্রমে যাবে।
২২ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় শিক্ষার্থীরা ভ্রাম্যমাণ ও স্থায়ী মঞ্চগুলো নিয়ে আবারও সায়েন্স ল্যাব মোড়ে গণজমায়েত হবেন। যদি ওইদিন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় এবং তা গেজেটে প্রকাশিত হয়, তবে শিক্ষার্থীরা বিজয় মিছিল করবেন। অন্যথায়, সেখান থেকেই 'যমুনা' (সম্ভবত যমুনা ফিউচার পার্ক সংলগ্ন এলাকা) বা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলো চূড়ান্ত খসড়া এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, খসড়া চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত গ্রহণ, ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে জনমত সংগ্রহ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়াসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করা হয়েছে।
ক্যাবিনেট মিটিংয়ের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র আরও জানান, বুধবারের ক্যাবিনেট মিটিংয়ে এ বিষয়ে কী আপডেট আসে, তা জানা যাবে। যদি সেদিন কোনো নেগেটিভ আপডেট আসে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে 'মার্চ ফর যমুনা' কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। আর যদি পজিটিভ খবর আসে, তবে বৃহস্পতিবার চারটি অধ্যাদেশ মঞ্চ থেকে সবাই একযোগে সায়েন্স ল্যাবের ভাসমান মঞ্চে এসে আনন্দ মিছিল করবেন। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, তাদের এই ভ্রাম্যমাণ ও স্থায়ী মঞ্চের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ ও সুধীজনদের যুক্ত করে দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলা যাবে।