• দেশজুড়ে
  • ২ কোটি টাকার ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’: সাবেক প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা ও সাবেক এমপি পনিরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

২ কোটি টাকার ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’: সাবেক প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা ও সাবেক এমপি পনিরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
২ কোটি টাকার ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’: সাবেক প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা ও সাবেক এমপি পনিরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় টিকিট পাইয়ে দিতে কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে আইনি জালে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব ও কুড়িগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য; কড়া নজরদারিতে ত্রয়োদশ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের আলোচিত ‘Nomination Trade’ বা মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে এবার কঠোর অবস্থানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাকার বিনিময়ে দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সংস্থাটি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দুদকের মহাপরিচালক আকতার হোসেন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন ও মনোনয়ন বাণিজ্য

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ আসনে পনির উদ্দিন আহমেদকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাইয়ে দিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন মশিউর রহমান রাঙ্গা। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ কোটি টাকার একটি ‘Illegal Transaction’ বা অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন হয়। দুদকের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়েছিল, যা সরাসরি দুর্নীতি দমন আইনের পরিপন্থী।

সংবাদ সম্মেলনে দুদক মহাপরিচালক জানান, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোতে মনোনয়ন বাণিজ্যের অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গা ও পনিরের বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ অত্যন্ত জোরালো হওয়ায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নজরদারি ও দুদকের হুঁশিয়ারি

কেবল অতীত নয়, ভবিষ্যৎ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে দুদক। মহাপরিচালক আকতার হোসেন বলেন, “আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের ‘Nomination Trade’ হচ্ছে কি না, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। একটি শক্তিশালী ‘Fact-finding Committee’ এ বিষয়ে কাজ করছে। কোনো দল বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মনোনয়ন বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে ছাড় দেওয়া হবে না।” রাজনৈতিক দলগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এটি একটি ‘Red Alert’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে ৪২ কোটির লেনদেনে চার্জশিট

একই সংবাদ সম্মেলনে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার অগ্রগতির কথা জানানো হয়। প্রায় ৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ (Assets) অর্জন এবং ৪২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে ‘Charge Sheet’ বা অভিযোগপত্র দাখিল করেছে সংস্থাটি। দুদকের তদন্তে দেখা গেছে, ক্ষমতায় থাকাকালীন শরীফ আহমেদ তার পদের অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার বা ‘Money Laundering’-এর সাথে যুক্ত থাকতে পারেন।

সুষ্ঠু নির্বাচন ও আইনি বাধ্যবাধকতা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে মনোনয়ন বাণিজ্য একটি পুরনো ব্যাধি। তবে দুদকের এই তৎপরতা রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চায় একটি ইতিবাচক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে বড় বড় নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা এবং ‘Charge Sheet’ দাখিল করার বিষয়টি আইনি শাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দুদক জানিয়েছে, কেবল সাবেক সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী নয়, এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচনী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আগামী দিনগুলোতে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি।

Tags: money laundering election 2024 corruption case jatiya party charge sheet acc bangladesh nomination trade mashiur rahman ranga panir uddin ahmed sharif ahmed