জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজকে উপেক্ষা করে প্রণীত জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৬-বর্তমানে কার্যক্রমে চরম অসন্তোষ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (গাকৃবিশিস)। সোমবার সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী এবং সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম ,এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, উচ্চতর শিক্ষার মূল স্তম্ভ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে সুস্পষ্ট বৈষম্য ও অবমূল্যায়ন প্রতিফলিত হয়েছে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ অবদান রাখা শিক্ষকরা আজ পে কমিশনের কাঠামোতে অবহেলিত ও বঞ্চিত-যা জাতির জন্য গভীরভাবে হতাশাজনক। তাঁরা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, একদিকে প্রশাসনিক ও কারিগরি পদের দ্রুত গ্রেড উন্নয়ন, সুযোগ-সুবিধার বিস্তার অন্যদিকে উচ্চতর যোগ্যতা, গবেষণা, প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিকমানের একাডেমিক দায়বদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের জন্য স্থিতিশীল গ্রেড, আর্থিক অবমূল্যায়ন ও মর্যাদাহানিকর প্রস্তাবনা-এটি নিছক অবহেলা নয়, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক বঞ্চনা। শিক্ষক সমাজের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে পূর্বের সরকারের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র বেতন স্কেল, পদোন্নতির সময়সীমা কমানোসহ নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। তথাপি শিক্ষকবৃন্দকে আরও অবদমিত করার প্রয়াসে ২০২৬ সালের বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।বিবৃতিতে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র, সম্মানজনক ও বৈষম্যহীন বেতন কাঠামো নিশ্চিত করে পে কাঠামো প্রণয়ন, গ্রেড বৈষম্য নিরসন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির জোর দাবি জানানো হয়।‘শিক্ষক সমাজ কোনো অনুগ্রহ চায় না-চায় ন্যায্যতা, সম্মান ও মর্যাদা’ উল্লেখ করে গাকৃবিশিসের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, যে রাষ্ট্র তার শিক্ষকদের মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়, তার উন্নয়ন কখনোই টেকসই হতে পারে না। সুতরাং, জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৬-কে শিক্ষাবান্ধব, মানবিক ও বৈষম্যহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহবান জানান।
জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৬-এ শিক্ষকদের প্রতি বৈষম্য স্পষ্ট ন্যায্য পে কাঠামোর দাবি গাকৃবি শিক্ষক সমিতির
দেশজুড়ে
১ মিনিট পড়া
গাজীপুর প্রতিনিধি :