ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক জিলা স্কুল হোস্টেল মাঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—নগরের মাদ্রাসা কোয়ার্টার এলাকার বাসিন্দা হৃদয় মিয়া (২৭) এবং একই এলাকার রাকিব মিয়া (২৫)। খেলার মাঠের আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয় এই আকস্মিক দুর্ঘটনায়।
ঘটনার নেপথ্য ও পুলিশের ভাষ্য
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জিলা স্কুল হোস্টেল মাঠের এক কোণে পরিত্যক্ত টিনশেডের পেছনে থাকা একটি সোলার ল্যাম্পপোস্ট (Solar Lamp Post) সরাতে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রাকিব মিয়া প্রথমে ল্যাম্পপোস্টের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেন। সেটি নামানোর সময় অসাবধানতাবশত পোস্টটি পাশের একটি উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে।
তৎক্ষণাৎ রাকিব মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট (Electrocution) হয়ে ঝলসে যান। তাকে ছিটকে পড়ে যেতে দেখে এবং ছটফট করতে দেখে বন্ধু হৃদয় মিয়া তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে যান। কিন্তু হৃদয় স্পর্শ করতেই তিনিও শক্তিশালী বিদ্যুৎ প্রবাহে আক্রান্ত হন। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বন্ধুর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং তারা অচেতন হয়ে পড়েন।
হাসপাতালে নেওয়া ও চিকিৎসকদের ঘোষণা
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং হৃদয় ও রাকিবকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (MMCH) হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহ সরাসরি হৃৎপিণ্ডের ওপর আঘাত করায় তারা ‘Spot Dead’ বা ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর শিকার হয়েছেন।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
ওসি নাজমুস সাকিব আরও জানান, নিহত দুই বন্ধুর মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। সোলার প্যানেলটি সরানোর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা চুরির প্রচেষ্টা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে প্রাথমিকভাবে একে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিহতদের এলাকায় শোকের আবহ
মাদ্রাসা কোয়ার্টার এলাকার দুই টগবগে যুবকের এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর শোনার পর থেকেই হাসপাতালে এবং নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অনেকেই বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা এবং পরিত্যক্ত অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।