আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি একই সঙ্গে মামলার অভিযোগপত্র প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেন।
আদালতে আসামির বক্তব্য
শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী নিজেই বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি নেন। আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি ন্যায়বিচার আশা করি। আমাদের বিশ্বাস, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে না।”
তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ২৫ নভেম্বর তাকে ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে আদালতে আনা হয়। তিনি দাবি করেন, গাড়ি থেকে নেমে আদালতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় ৪০টি টিভি চ্যানেল এবং বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সনাতন ধর্ম অনুযায়ী প্রাণি হত্যা নিষিদ্ধ। তাই অভিযোগপত্রে উল্লেখিত হত্যাকাণ্ডে আমি কোনোভাবেই জড়িত হতে পারি না।” তিনি জানান, সংখ্যালঘু হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি, শুধু মৌলিক ৮টি দাবি সরকারের কাছে উপস্থাপন করেছেন।
রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের পাল্টাপাল্টি যুক্তি
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এসইউএম নুরুল ইসলাম এবং সহকারী পিপি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী আদালতকে জানান, অভিযোগপত্র, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, জবানবন্দি ও সুরতহাল রিপোর্টে যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। পিপি নুরুল ইসলাম বলেন, “আসামিরা যা বলছেন, তারা জড়িত নন—এটি সত্য নয়। হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধভাবে সংঘটিত হয়েছে।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চিন্ময় দাস আদালতে উপস্থিত হওয়ার পর তার অনুসারীরা তাকে ঘিরে রেখেছিলেন এবং প্রিজন ভ্যানে ওঠানোর সময়ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে উগ্র অনুসারীরা আইনজীবী আলিফকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চার্জশিটে ৩৯ আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি ও প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন। ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে আলিফের দেহে ২৬টি কোপ ছিল। বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, চিন্ময় দাস যদি বলেন তার অনুসারীরা প্রাণি হত্যা করেন না, তাহলে কীভাবে একজন আইনজীবীকে এভাবে হত্যা করা হলো? এটি প্রমাণ করে, হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক ছিল।
আসামির পরিস্থিতি
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, মামলার মোট ৩৯ আসামির মধ্যে ২৩ জন হাজতে ছিলেন এবং বাকি ১৬ জন পলাতক। হাজতে থাকা আসামিদের মধ্যে কয়েকজন নিজের পক্ষে বক্তব্য দেন, তবে বাকিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।