ভোটের প্রচারে কড়া পুলিশি নজরদারি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ডিএমপি। এরই ধারাবাহিকতায়, প্রার্থীরা যেদিন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করবেন, সেই ২২ জানুয়ারি থেকেই রাজধানীতে 'অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ ২'-এর আওতায় আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই অভিযানে মূলত সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ওপর জোর দেওয়া হবে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এস এন মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো ধরনের 'ফ্যাসিস্টদের' দমনের লক্ষ্যেই সারা দেশে এই অভিযান চলছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীতে এটি আরও গতি পাবে।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাঠে থাকার নির্দেশ
সোমবার ডিএমপি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন-সম্পর্কিত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা সভা থেকে এই সিদ্ধান্তগুলো আসে। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সভাপতিত্বে সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এই সভা চলে। এতে ডিএমপির সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), অপরাধ বিভাগের উপকমিশনারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি থেকে সহকারী কমিশনার থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মাঠে উপস্থিত থাকবেন। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা তদারকি করবেন।
পুলিশ সদস্যদের জন্য নিরপেক্ষতার বার্তা
সভায় ডিএমপির পক্ষ থেকে পুলিশ সদস্যদের জন্য কঠোর কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
- কোনো পুলিশ সদস্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না।
- দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো প্রার্থীর দেওয়া খাবার গ্রহণ করা যাবে না।
- সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে পুলিশ সদস্যদের অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে।
যদি কোনো পুলিশ সদস্য এই নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটান, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া, কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ভোটদানে কোনো ধরনের বাধা বা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও আগাম তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা
ডিএমপি সূত্র মতে, ঢাকা শহরে মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর নিরাপত্তায় মোট ২৫ হাজার পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হবে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রগুলোকে 'গুরুত্বপূর্ণ' ও 'সাধারণ'—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১ হাজার ৮২৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাকি ৩০৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন আনসার সদস্য এবং একজন সহকারী সেকশন কমান্ডার অস্ত্রসহ দায়িত্বে থাকবেন। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ভোটের তিন-চার দিন আগেই রাজধানীতে প্রায় তিন হাজার গাড়ি রিকুইজিশন করা হবে, যা নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের আনা-নেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের টহল দলও ব্যবহার করবে।