প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্দেশ্য সোমবার (১৯ জানুয়ারি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে এফএসসিডি’র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালসহ জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা (JICA)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের আওতায় একটি বেজমেন্টসহ আধুনিক ১০ তলা ভবন নির্মিত হবে। এটি জাতীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম, পরিচালনা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে দেশের ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
'বেস আইসোলেশন' প্রযুক্তির গুরুত্ব এই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো 'বেস আইসোলেশন' প্রযুক্তির ব্যবহার। এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে কোনো ভবনে প্রথম ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বিশেষ ব্যবস্থার ফলে ভূমিকম্পের সময় ভবনটি ভূমির কম্পন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে, যার ফলে ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এটি নিশ্চিত করবে যে জরুরি পরিস্থিতিতেও ভবনটি কার্যকর থাকতে পারবে।
অর্থায়ন ও সময়সীমা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রায় ৫.১৬ বিলিয়ন টাকা ব্যয়ে ১০ তলা ভবনটি ২০২৫ সাল থেকে ২০২৮ সাল মেয়াদে নির্মাণ করা হবে।
ভবনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নতুন এই সদর দপ্তর ভবনটি জরুরি অবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে অত্যাধুনিক অগ্নি শনাক্তকরণ ও নির্বাপণ ব্যবস্থা, জীবনরক্ষা সরঞ্জাম, জরুরি সেবা সমন্বয়ের জন্য হেলিপ্যাড এবং প্রশিক্ষণ ও সরকারি কার্যক্রমের জন্য বৃহৎ অডিটোরিয়াম। এছাড়া, উন্নতমানের অভ্যন্তরীণ নকশা ও ল্যান্ডস্কেপিং একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করবে।
পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বৈশিষ্ট্য টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য মাথায় রেখে এই প্রকল্পে বেশ কিছু পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, বর্জ্য পানি পরিশোধন ব্যবস্থা, জ্বালানি সাশ্রয়ী এয়ার কন্ডিশনিং, স্বয়ংক্রিয় আলোকসজ্জা এবং স্মার্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এসব ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে ভবনের দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব পরিচালনা নিশ্চিত করবে। এই প্রকল্পটি দুর্যোগ সহনশীল সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।