• আন্তর্জাতিক
  • ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের পেতেই হবে’: ডেনমার্ককে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেন ট্রাম্প

‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের পেতেই হবে’: ডেনমার্ককে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের পেতেই হবে’: ডেনমার্ককে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেন ট্রাম্প

দ্যাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আগে আট ন্যাটো মিত্রের ওপর বিপুল শুল্ক আরোপের হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্টের; গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি’র অবিচ্ছেদ্য অংশ দাবি।

সুইজারল্যান্ডের দ্যাভোসে আসন্ন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (World Economic Forum) অধিবেশনকে সামনে রেখে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের বা ক্রয়ের পুরনো আকাঙ্ক্ষা আবারও উসকে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসা প্রয়োজন। এমনকি এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

কৌশলগত ভূ-রাজনীতি ও ডেনমার্কের প্রতি হুঁশিয়ারি

সোমবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, “আমাদের এটা পেতেই হবে। ডেনমার্কের জনগণ চমৎকার হলেও তারা এই বিশাল অঞ্চল রক্ষা করার ক্ষমতা রাখে না।” ট্রাম্পের দাবি, ডেনমার্কের শাসকরা গ্রিনল্যান্ডে যান না বললেই চলে, অথচ অঞ্চলটি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘Strategic Asset’। আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং চীনের নজরদারির মোকাবিলা করতে হলে গ্রিনল্যান্ডে শক্তিশালী অবস্থান থাকা ওয়াশিংটনের জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে উন্নত ‘Missile Defense System’ এবং রাডার স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করতে এই দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

ন্যাটো মিত্রদের ওপর ‘ট্যারিফ’ যুদ্ধের হুমকি

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের আটটি ন্যাটো (NATO) মিত্র দেশ। এই বিরোধিতাকে মোটেই ভালোভাবে নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই দেশগুলোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ‘Import Duty’ বা আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। পরিস্থিতি বদল না হলে জুন নাগাদ এই শুল্কের হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ একটি নতুন ‘Trade War’ বা বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে (Global Economy) নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, তিনি এই শুল্ক নীতি বাস্তবায়নে ১০০ ভাগ সংকল্পবদ্ধ।

ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ও ‘ব্ল্যাকমেইল’ বিতর্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা ট্রাম্পের এই আচরণকে প্রকাশ্য ‘Blackmail’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অংশ কিনে নেওয়ার প্রস্তাব এবং তাতে রাজি না হলে সামরিক শক্তির হুমকি দেওয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন তারা। ডেনমার্ক সরকার ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করেছে যে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। কিন্তু ট্রাম্পের দাবি, এটি মার্কিন ‘National Security’ বা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি এবং সম্পদসমৃদ্ধ এই দ্বীপটির দখল নিতে তিনি যেকোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত।

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ও ব্রিটিশ সরকারের সমালোচনা

গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গের মাঝেই ট্রাম্প ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ সরকার এই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা হস্তান্তরের যে পরিকল্পনা করছে, তাকে ‘চরম বোকামি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। মূলত এই অঞ্চলের ‘Diego Garcia’ সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পের এই ‘Aggressive Diplomacy’ বা আক্রমণাত্মক কূটনীতি নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রচ্ছন্ন হুমকি এবং বিশাল বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের সম্পর্কের ফাটলকে আরও প্রশস্ত করবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।