• দেশজুড়ে
  • তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনপদ: দেশজুড়ে রেড ক্রিসেন্টের বড়মাপের মানবিক কার্যক্রম, বিতরণ হচ্ছে ৩৫ হাজার কম্বল

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনপদ: দেশজুড়ে রেড ক্রিসেন্টের বড়মাপের মানবিক কার্যক্রম, বিতরণ হচ্ছে ৩৫ হাজার কম্বল

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনপদ: দেশজুড়ে রেড ক্রিসেন্টের বড়মাপের মানবিক কার্যক্রম, বিতরণ হচ্ছে ৩৫ হাজার কম্বল

কনকনে শীতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি; কম্বল বিতরণের পাশাপাশি নিপা ভাইরাস ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চলছে দেশব্যাপী ‘অ্যাওয়ারনেস’ প্রচারণা।

দেশব্যাপী চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত জনপদের নিম্নআয়ের মানুষ, শিশু এবং বয়স্করা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন। এই মানবিক সংকটে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছে দেশের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)। শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়া দুস্থ ও গৃহহীন মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দেশের প্রতিটি জেলায় একযোগে প্রায় ৩৫ হাজার কম্বল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রম

রেড ক্রিসেন্টের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (IFRC)। এছাড়া বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে ড্যানিশ রেড ক্রস, কাতার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সুইস রেড ক্রস, ব্রিটিশ রেড ক্রস, আমেরিকান রেড ক্রস এবং কমিক রিলিফ এই উদ্যোগে সরাসরি যুক্ত হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৪টি সিটি ইউনিটসহ মোট ৬৮টি ‘ইউনিট ব্রাঞ্চ’-এর মাধ্যমে এই ত্রাণ সহায়তা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে ৫০০ ভলান্টিয়ারের নিরলস কাজ

বিডিআরসিএস-এর এই মানবিক কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন রেড ক্রিসেন্টের প্রশিক্ষিত যুব স্বেচ্ছাসেবকরা (Youth Volunteers)। অন্তত ৫০০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের তালিকা তৈরি করেছেন। প্রকৃত প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে এই শীতবস্ত্র পৌঁছে দিচ্ছেন, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে।

মানবিক দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ড. কবির মো. আশরাফ আলম, এনডিসি এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, “চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের একটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আমাদের প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠপর্যায়ে দিনরাত কাজ করছেন, যাতে সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন মানুষদের কাছে দ্রুত ও সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়।” তিনি এই কার্যক্রমে সক্রিয় সহযোগিতার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বহুমুখী সতর্কতা

শুধুমাত্র শীতবস্ত্র বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয় রেড ক্রিসেন্টের এবারের কার্যক্রম। শীতকালীন বিভিন্ন ‘Health Risk’ বা স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সংস্থাটি দেশজুড়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। বিশেষ করে প্রাণঘাতী নিপা (NIPAH) ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে জেলাগুলোর জনসমাগমস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সেবাকেন্দ্রে মাইকিং করা হচ্ছে। শীতকালীন খাদ্যাভ্যাস এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে মাঠপর্যায়ের প্রচারণার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও (Social Media) বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা বা ‘Alert’ প্রচার করছে সংস্থাটি।

ভূ-রাজনৈতিক এবং প্রাকৃতিক যেকোনো দুর্যোগে রেড ক্রসের মূলনীতি অনুসরণ করে বিডিআরসিএস-এর এই সক্রিয় ভূমিকা বাংলাদেশের মানবিক দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি টেকসই মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শীতের প্রকোপ থাকা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ‘Humanitarian Aid’ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Tags: humanitarian aid bangladesh news cold wave health alert blanket distribution nipah virus bdrcs ifrc winter emergency volunteer service