জাহাজনির্মাণ শিল্পে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজনির্মাণ শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank) এক বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। আজ মঙ্গলবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এসব খাতের উদ্যোক্তারা মাত্র দেড় শতাংশ (১.৫%) অর্থ জমা দিয়ে তাদের ঋণ নবায়ন (Loan Renewal) করতে পারবেন।
বিশেষ সুবিধার কাঠামো: ১০ বছর মেয়াদ ও গ্রেস পিরিয়ড
এই বিশেষ নীতিমালা জাহাজনির্মাণ শিল্পকে সচল রাখতে ঋণ পুনঃ তফসিল (Loan Reschedule) ও পুনর্গঠনে বিশেষ সুবিধা দেবে:
মেয়াদ ও গ্রেস পিরিয়ড: ঋণ নবায়ন হলে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত পরিশোধের সময় পাবেন। এছাড়াও প্রথম দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতি (Grace Period) সুবিধাও পাওয়া যাবে।
এককালীন জমা: ঋণ বা বিনিয়োগ হিসাব পুনঃ তফসিল করতে চাইলে মোট ঋণ স্থিতির ওপর ৩ শতাংশ এককালীন জমা দিতে হবে। এর মধ্যে ১.৫ শতাংশ পুনঃ তফসিল আবেদনের সময় এবং অবশিষ্ট ১.৫ শতাংশ কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
সুদ পরিশোধ: গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে গ্রাহককে মূল ঋণের বিপরীতে আরোপিত সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আর স্থগিত সুদ (Blocked Interest) গ্রেস পিরিয়ড শেষে সুদবিহীনভাবে পৃথক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য হবে।
নীতির উদ্দেশ্য: বৈশ্বিক অস্থিরতায় নগদ প্রবাহ রক্ষা
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ইউরোপের সামরিক অস্থিতিশীলতা এবং সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নের কারণে জাহাজনির্মাণ খাতের নগদ প্রবাহে (Cash Flow) নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে প্রকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ আদায় ও শিল্প খাতের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নীতিমালার কঠোরতা: জালিয়াত ও খেলাপিদের বাদ
বাংলাদেশ ব্যাংক শর্ত দিয়েছে, এই বিশেষ পুনঃ তফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণের বিপরীতে নতুন ঋণসুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট (Compromise Amount) পরিশোধের প্রয়োজন হবে না। তবে:
বাদ: জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতারা (Wilful Defaulters) এ সুবিধার আওতায় আসবেন না।
ব্যাংকের দায়িত্ব: ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক প্রকৃত অর্থে নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা বিশেষ পরিদর্শনের (Special Inspection) মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
গ্রাহকেরা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদন প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।