• আন্তর্জাতিক
  • খামেনির দিকে হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে ফেলা হবে, বিশ্বজুড়ে আগুন ধরানোর হুঁশিয়ারি ইরান সেনার

খামেনির দিকে হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে ফেলা হবে, বিশ্বজুড়ে আগুন ধরানোর হুঁশিয়ারি ইরান সেনার

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
খামেনির দিকে হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে ফেলা হবে, বিশ্বজুড়ে আগুন ধরানোর হুঁশিয়ারি ইরান সেনার

ট্রাম্পের ‘শাসন পরিবর্তন’ বার্তার পাল্টা জবাবে তেহরানের চরম হুঁশিয়ারি; খামেনিকে নিশানা করা হলে জিহাদের ফতোয়া ও বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের ডাক দেওয়ার হুমকি ইরানের পার্লামেন্টারি কমিশনের।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা (Geopolitical Tension) এবার চরম সীমায় পৌঁছেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিরাপত্তা বা সম্মানে আঘাত হানলে সরাসরি যুদ্ধ ও ধ্বংসাত্মক পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, খামেনির দিকে কোনো প্রকার আগ্রাসনের হাত বাড়ানো হলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই কড়া বার্তা দিল তেহরান।

রণহুঙ্কার ইরান সেনার: ‘পুরো বিশ্বে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে’

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আবুলফজল শেখারচি এক বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সর্বোচ্চ নেতার দিকে যদি কেউ আগ্রাসনের হাত বাড়ায়, তবে সেই হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হবে।” এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, আয়াতুল্লাহ খামেনিকে কোনোভাবে নিশানা করা হলে ইরান কেবল নিজের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো বিশ্বে ‘আগুন ধরিয়ে দেওয়া’ হবে। সামরিক বাহিনীর এই মন্তব্যকে পশ্চিমী বিশ্বের প্রতি একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

জিহাদের ফতোয়া ও বিশ্বযুদ্ধের হুমকি

সেনাবাহিনীর সুরেই সুর মিলিয়ে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন এক বিশেষ ঘোষণা দিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার ওপর যেকোনো হামলা কেবল ইরানের ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি সমগ্র ‘ইসলামি বিশ্বের’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে গণ্য হবে।

কমিটির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসলামি আলেমদের পক্ষ থেকে ‘জিহাদের ফতোয়া’ (Jihad Decree) জারি করা হবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইসলামের রক্ষকরা একযোগে প্রতিক্রিয়া জানাবে, যা একটি বড় মাপের আন্তর্জাতিক সংঘাতের পথ খুলে দিতে পারে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতার ওপর আগ্রাসন মানে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ (Full-scale War)।

ট্রাম্প বনাম খামেনি: বাগযুদ্ধের নেপথ্যে

ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বিক্ষোভের জন্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন খামেনি। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেন যে, ইরানে ‘শাসন পরিবর্তনের’ (Regime Change) সময় এসে গেছে। ট্রাম্পের এই সরাসরি হস্তক্ষেপমূলক বার্তার পরই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ইরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি তাদের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় নেতৃত্বের ওপর আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে।

জাতিসংঘের পদক্ষেপ ও মানবাধিকার ইস্যু

ইরানের এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটিতে মানবাধিকার (Human Rights) লঙ্ঘনের অভিযোগে সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ব্রিটেন, জার্মানি, আইসল্যান্ডসহ বেশ কিছু দেশের অনুরোধে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ (UN Human Rights Council) একটি জরুরি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন খতিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ। তবে ইরান এই পদক্ষেপকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ’ হিসেবেই দেখছে।

মস্কোর সমর্থন: অটুট থাকছে বাণিজ্যিক সম্পর্ক

ওয়াশিংটনের কড়া নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির মুখেও ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের কৌশলগত মিত্র (Strategic Ally) রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা মস্কোর নেই। রাশিয়ার এই অবস্থান ইরানের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বস্তি হিসেবে কাজ করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের পথে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

Tags: middle east donald trump human rights ayatollah khamenei regime change global security iran protest iran army russia iran tehran warning