• জীবনযাপন
  • কাঁচা না কি রান্না করা—বিটরুট খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি কী? জেনে নিন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ

কাঁচা না কি রান্না করা—বিটরুট খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি কী? জেনে নিন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
কাঁচা না কি রান্না করা—বিটরুট খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি কী? জেনে নিন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হার্ট সুস্থ রাখতে বিটরুট অপ্রতিদ্বন্দ্বী; তবে খাওয়ার ভুলে হিতে বিপরীত হতে পারে, তাই সঠিক পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে কিছু জরুরি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

টকটকে রানি গোলাপী রঙের বিটরুট বর্তমান বিশ্বের স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে একটি পরিচিত নাম। ডায়েট চার্টে একে ‘সুপারফুড’ (Superfood) হিসেবে গণ্য করা হয়। সালাদ, স্যুপ কিংবা তরকারি—নানাভাবেই আমরা বিটরুট খেয়ে থাকি। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, এর প্রকৃত গুণাগুণ নির্ভর করে আমরা এটি কীভাবে খাচ্ছি তার ওপর। বিটরুট কি কাঁচা খাওয়া বেশি উপকারী, নাকি রান্না করলে এর কার্যকারিতা বাড়ে? এই প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে আপনি হয়তো বঞ্চিত হচ্ছেন এর মূল পুষ্টিগুণ থেকে।

কাঁচা বিটরুটের মহিমা: স্ট্যামিনা ও হার্টের সুরক্ষায়

আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং তাৎক্ষণিক শক্তির (Energy) খোঁজ করেন, তবে কাঁচা বিটরুট আপনার জন্য সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প। কাঁচা অবস্থায় এতে ভিটামিন সি (Vitamin C), ফোলেট এবং পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলো একদম অটুট থাকে।

কাঁচা বিটরুটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট (Natural Nitrate)। এটি শরীরের ভেতর প্রবেশ করে ‘নাইট্রিক অক্সাইড’-এ (Nitric Oxide) রূপান্তরিত হয়। এই উপাদানটি রক্তনালি প্রসারিত করতে সাহায্য করে, ফলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং হার্ট ভালো থাকে। বিশেষ করে অ্যাথলিট (Athletes) বা যারা নিয়মিত জিমে ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য কাঁচা বিটরুটের জুস স্ট্যামিনা ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

সতর্কতা: কাদের জন্য কাঁচা বিটরুট নয়?

উপকারিতা থাকলেও কাঁচা বিটরুট সবার শরীরের জন্য সই না-ও হতে পারে। যাদের হজমের সমস্যা (Digestive Issues), ঘন ঘন গ্যাস বা অ্যাসিডিটির প্রবণতা রয়েছে, তাদের কাঁচা বিটরুট এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। অনেক ক্ষেত্রে কাঁচা সবজি হজম করা পাকস্থলীর জন্য বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে, যা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

রান্না করা বিটরুট: সহজপাচ্য ও নিরাপদ

অনেকেই মনে করেন রান্না করলে সবজির সব গুণ নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু বিটরুটের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। যারা কাঁচা সবজি সহজে হজম করতে পারেন না, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য রান্না করা বিটরুট অনেক বেশি নিরাপদ ও সহজপাচ্য (Easily Digestible)।

হালকা ভাপে (Steam) রান্না করলে বা সেদ্ধ করলে এর ভেতরের শক্ত ফাইবার বা আঁশ নরম হয়ে যায়, যা আমাদের অন্ত্রের জন্য আরামদায়ক। যদিও উচ্চ তাপে রান্না করলে ভিটামিন সি কিছুটা কমে যেতে পারে, তবে এর ভেতরে থাকা আয়রন (Iron) ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant) যথেষ্ট পরিমাণে বজায় থাকে।

পুষ্টি বজায় রাখার সঠিক পদ্ধতি

বিটরুট থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে হলে এর রন্ধনশৈলীতে কিছুটা পরিবর্তন আনা জরুরি। অতিরিক্ত তেল-মশলা দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিটরুট কষালে এর সমস্ত ভেষজ গুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই পুষ্টিবিদদের পরামর্শ: ১. বিটরুট সরাসরি উচ্চ তাপে না ভেজে হালকা সেদ্ধ বা স্টিম করে খাওয়ার অভ্যাস করুন। ২. সালাদে খেতে চাইলে খুব পাতলা করে কুচিয়ে নিন এবং সাথে অল্প লেবুর রস মিশিয়ে নিন। লেবুর ভিটামিন সি বিটরুটের আয়রন শোষণে শরীরকে সাহায্য করে। ৩. ওভেনে হালকা রোস্ট করেও এটি খাওয়া যেতে পারে।

শেষ কথা

আপনার যদি হজমশক্তি ভালো থাকে এবং আপনি অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্স বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তবে কাঁচা বিটরুটের জুস বা সালাদ বেছে নিন। আর যদি আপনার পাকস্থলী সংবেদনশীল হয়, তবে হালকা রান্না করা বিটরুটই সেরা বিকল্প। সুস্থ থাকতে আপনার শারীরিক অবস্থা বুঝে খাদ্যতালিকায় এই দুই পদ্ধতির সঠিক সমন্বয় রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

Tags: digestive health vitamin c healthy diet heart health nutrition facts superfood tips beetroot benefits raw vs cooked fitness food antioxidant rich