• আন্তর্জাতিক
  • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা: ২ জনের মৃত্যু, বিধ্বস্ত সীমান্ত ক্রসিং ও বহু আহত

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা: ২ জনের মৃত্যু, বিধ্বস্ত সীমান্ত ক্রসিং ও বহু আহত

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা: ২ জনের মৃত্যু, বিধ্বস্ত সীমান্ত ক্রসিং ও বহু আহত

হিজবুল্লাহর অস্ত্র পাচার রুখতে সিরিয়া সীমান্তে বোমাবর্ষণ তেল আবিবের; সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও সিরিয়া সীমান্তে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা (Airstrike) চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তেল আবিবের দাবি, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর (Hezbollah) অস্ত্র পরিবহনের রুট হিসেবে ব্যবহৃত চারটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিং (Border Crossing) লক্ষ্য করে এই নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় চালানো এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ও হতাহতের বিবরণ

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের কানারিত এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের আঘাতে ১৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া জাহরানি ও বাজুরি শহরে পৃথক দুটি গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি, নিহতদের মধ্যে একজন হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ ‘অস্ত্র বিশেষজ্ঞ’ বা অস্ত্র সরবরাহকারী কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, সিরিয়া ও লেবানন সীমান্তের অন্তত চারটি কৌশলগত ক্রসিং পয়েন্টে বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানারিত ছাড়াও আল-খারায়েব, আল-আনসার, কফুর ও জারজুহসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ও শহরে ভারী হামলা চালানো হয়েছে।

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও সার্বভৌমত্ব বিতর্ক

২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) কার্যকর হয়েছিল। তবে সেই চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত ৩০০-এর বেশি মানুষ ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ১২৭ জনই ছিলেন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক।

এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, “ইসরায়েল পুনরায় লেবাননের ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে পরিকল্পিত আগ্রাসন শুরু করেছে। তারা সরাসরি নাগরিকদের টার্গেট করছে। বারবার এ ধরনের আচরণ করে ইসরায়েল মূলত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ না করার বৈশ্বিক অঙ্গীকার ভঙ্গ করছে।”

ইসরায়েলের সামরিক যুক্তি ও হিজবুল্লাহর অবস্থান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর অস্ত্র পাচারের পথ বন্ধ করতেই এই ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাটাক’ (Tactical Attack) চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, সিরিয়া থেকে অবৈধ পথে লেবাননে উন্নতমানের মিসাইল ও ড্রোন পার্টস আনা হচ্ছিল।

তবে লেবাননের সেনাবাহিনী এই হামলাকে ২০২৪ সালের শান্তি প্রক্রিয়ার পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, ইসরায়েলের ক্রমাগত বিমান হামলা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, ইসরায়েলি উস্কানি চলতে থাকলে তারা তাদের প্রতিরক্ষা শক্তি (Defensive Strength) আরও বৃদ্ধি করবে এবং অস্ত্র ত্যাগের কোনো প্রশ্নই আসে না।

মানবিক সংকট ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ও সিরিয়া সীমান্ত এখন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একদিকে ইসরায়েলের ‘প্রি-এমপ্টিভ স্ট্রাইক’ (Pre-emptive Strike) বা আগাম হামলার কৌশল, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর গেরিলা তৎপরতা—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো কাগজে-কলমে থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রয়োগ এখন কেবলই মরীচিকা।

বাগেরহাটের স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল পর্যন্ত এখন উৎকণ্ঠা বাড়ছে—এই সংঘাত কি শেষ পর্যন্ত একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের (Regional War) দিকে মোড় নেবে?

Tags: middle east ceasefire violation war news lebanon airstrike israel attack hezbollah conflict syria border civilian casualties