• দেশজুড়ে
  • ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: ঢাল-বর্শা ও পাইপগানসহ গ্রেফতার ১৮

ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: ঢাল-বর্শা ও পাইপগানসহ গ্রেফতার ১৮

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: ঢাল-বর্শা ও পাইপগানসহ গ্রেফতার ১৮

নগরকান্দায় বিপুল দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার; আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার দাবি সেনাবাহিনীর।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় এক বিশেষ ‘Joint Operation’ বা যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, মধ্যযুগীয় ঢাল-বর্শা এবং মাদকসহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোররাতে উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের শাকপালদিয়া গ্রামে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে এই সাড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করতে এবং এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একদল সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী বিপুল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই গ্রামে অবস্থান করছিল। এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই ‘Intelligence-led’ অভিযান শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গোপন সংবাদে শাকপালদিয়ায় সাড়াশি অভিযান

ফরিদপুর সেনা ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নগরকান্দা আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের একটি চৌকস দল শাকপালদিয়া গ্রামে অভিযানে নামে। ভোররাতের এই আকস্মিক অভিযানে অপরাধী চক্রটি পালানোর কোনো সুযোগ পায়নি। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওই এলাকায় একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল যারা রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পরিকল্পনা করছিল।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বহর: আগ্নেয়াস্ত্র থেকে মধ্যযুগীয় ঢাল-বর্শা

তল্লাশিকালে যৌথ বাহিনী যে পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে তা দেখে রীতিমতো বিস্মিত কর্মকর্তারা। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি সিঙ্গেল ব্যারেল ‘Pipe-gun’, ১২ বোর কার্তুজ, ১০টি বড় ঢাল (Shield), ৭টি বর্শা (Spear), ৮টি কাস্তে, ৬টি বড় রামদা এবং ৫টি ছোট ছুরি।

একই সঙ্গে ওই আস্তানা থেকে ৪ কেজি গাঁজা এবং ১০২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি দেশীয় ও মধ্যযুগীয় ঘরানার এসব অস্ত্রের মজুত মূলত গ্রামীণ দাঙ্গা বা দলাদলিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল।

আটক ও আইনি পদক্ষেপ

অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—মো. সহিদ মোল্লা (৬৫), মো. শহিদ মোল্লা (৬৬), সিয়াম শেখ (১৫), পারভেজ ফকির (২৫), নাজমুল (২৩), আজিম মোল্লা (২৭), শাজাহান শেখ (৩৬), রবিউল মোল্লা (৩০), ইদ্রিস মোল্লা (৪২), আলেয়া বেগম (৩৮), তামান্না আক্তার (২০), মনিরা আক্তার (৩৫), রুনা আক্তার (২২), নাদিয়া বেগম (৩২), নূরজাহান (৬০), জয়নব বেগম (৬০) এবং আরও দুই কিশোর।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) রাসুল সামদানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃতরা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘Arms Act’ (অস্ত্র আইন) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ‘Law Enforcement’ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বড় সাফল্য। এতে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়বে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে।

Tags: law enforcement joint operation security alert faridpur news arms recovery pipe gun native weapons nagarkanda raid drugs seizure army mission