ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধিতে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বরিশালের প্রবেশদ্বারখ্যাত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) গভীর রাতে পরিচালিত এই অভিযানে ৩ জন পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিযানের নেপথ্যে: মধ্যরাতের তল্লাশি
বরিশাল জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা থেকে একটি বড় চক্র বাসে করে অবৈধভাবে জাটকা ঢাকায় পাচার করছে—এমন একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে (Intelligence Input) বিশেষ অভিযানে নামে সেনাবাহিনী। বুধবার রাত ১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কাশিপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু হয়।
কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস চ্যালেঞ্জ করে তল্লাশি চালান সেনাসদস্যরা। এসময় তিনটি বাসের লাগেজ বক্সে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৬৪ মণ জাটকা ইলিশ উদ্ধার করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ মাছ পরিবহনের দায়ে বাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বিপুল পরিমাণ মাছ এতিমখানায় বিতরণ
জব্দকৃত জাটকাগুলোর বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে বরিশাল জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জব্দকৃত মাছগুলো স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। শীতের সকালে টাটকা মাছ পেয়ে আনন্দিত এতিমখানার শিশুরা।
প্রশাসনের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
অভিযান শেষে বরিশাল জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানান, “সেনাবাহিনীর এই তৎপরতা আমাদের জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বাসের ভেতর যাত্রীদের আড়ালে যেভাবে মাছ পাচার করা হচ্ছিল, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাসহ আইনি প্রক্রিয়া (Legal Procedure) শুরু করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় জাটকা নিধন বিরোধী এমন কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মহাসড়কের বিভিন্ন ‘কানেক্টিং পয়েন্ট’গুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।