• রাজনীতি
  • আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে, উত্তরবঙ্গে প্রথম তিস্তাতেই কোদাল বসাব : ডাঃ শফিকুর রহমান

আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে, উত্তরবঙ্গে প্রথম তিস্তাতেই কোদাল বসাব : ডাঃ শফিকুর রহমান

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে, উত্তরবঙ্গে প্রথম তিস্তাতেই কোদাল বসাব : ডাঃ শফিকুর রহমান

রংপুর প্রতিনিধি

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন,নদী জীবন ফিরে পেলে উত্তরবঙ্গ জীবন ফিরে পাবে। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে কার ভালো লাগে এবং কার লাগবে না, এতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে, উত্তরবঙ্গে প্রথম তিস্তাতেই কোদাল বসাব।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮ টায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ১০ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, জনগণ নির্বাচিত করলে আমরা উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব ইনশাআল্লাহ। উত্তরবঙ্গে প্রয়োজনে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করবো। কৃষিপণ্য সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে নিষ্পেষিত ছিল। মানবিক যে অধিকার পাওয়ার কথা ছিল, তা পাওয়া হয় নাই। কানাডার টরেন্টোতে শুধু পালিয়ে যাওয়া লোকেদের পরিবার থাকে। যেহেতু ওই সমস্ত জায়গায় তাদের বেগমরা থাকে, তাই নাম দিয়েছে বেগমপাড়া। এতো লুটপাট করে কী লাভ হলো? শান্তি তো পেলেন না।

জামায়াত আমির বলেন, আপনারা আলেম-ওলামাদের খুন করেছেন। একটা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য একটা নারীকে ছিন্নভিন্ন করেছিলেন। আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত আব্রু নিয়ে নোংরামো করার চেষ্টা করেছেন। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অসংখ্য মানুষকে হত্যা, আহত, গুম করা হয়েছে। জামায়াত শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। জামায়াতের ১১ জন সিনিয়র নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। এক হাজারের ওপরে আমাদের নেতাকর্মীদের খুন করা হয়েছে। শত শত মানুষকে গুম আয়নাঘরে নিয়েছিল। ৫ তারিখের পর আমাদের আশা ছিল শান্তিতে বসবাস করব। কিন্তু আমাদের আশায় গুড়ে বালি।

আমরা ছিলাম সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা নিরীহ কোনো মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করি নাই। নিরপরাধ কারো নাম ঢুকে গেলে আমরা তাদের মুক্ত করে দিয়েছি। কাউকে ছাড়ানোর জন্য খাজনা চাই নাই। আমরা চাই চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত, অসৎ ও প্রতারকমুক্ত বাংলাদেশ। কোনো অসৎ মজার মজার মিথ্যা ওয়াদা দিলে তাদের লাল কার্ড দেখাবেন। এই দেশে আমরা চারটি ধর্মের মানুষ বসবাস করি। আল্লাহ আমাদের নিজ ইচ্ছায় এই দেশে পাঠিয়েছে। আল্লাহ সকল ধর্মের মানুষের জন্য রিজিকের ব্যবস্থা করেছে। মুসলমান অন্য কোনো ধর্মের ওপর কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আমরা বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা ইরান বানাতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে প্রিয় গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে তৈরি করতে চাই।

আমরা কোনো বেকার ভাতা দিতে চাই না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, বেকারভাতা বেকারের কারখানা তৈরি করে। আমরা নারী-পুরুষকে কাজ দিতে চাই। আমরা দেশের নারী-পুরুষকে সম্পদে পরিণত করতে চাই। আমাদের সকলের ঘরে মা-বোন আছে। সুতরাং নারীরা ঘরে কাজ করতে পারলে বাইরেও সম্মানের সাথে কাজ করতে পারবে। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় নারীরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। আমরা নারী কোনো ধর্মের, তা দেখব না। আমরা দেখব কতটুকু যোগ্যতাসম্পন্ন। যোগ্যতা অনুযায়ী আমাদের মা-বোনদের সম্মানজনক কাজ দেওয়া হবে।

জামায়াত আমির আরো বলেন, আমাদের সাথে সবাই আসতে পারবেন। তবে আসতে হলে তিনটি শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, দুর্নীতি করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ইচ্ছা থাকতে হবে; বিচার ব্যবস্থায় কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তৃতীয়ত, গত ৫৪ বছরের বস্তাপঁচা রাজনীতি বাদ দিয়ে আসতে হবে। গত ৫৪ বছরের রাজনীতি দেশকে শুধু পেছনের দিকে নিয়ে গিয়েছে।

রংপুর জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় মহানগর জামায়াতের সভাপতি এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ আসনের প্রার্থী এ টিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর ৪ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সদস্য ও রংপুর ৩ আসনের প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল, রংপুর-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী রায়হান সিরাজী, জেলা জামায়াতের আমীর ও রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানী, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল সিবগতুল্লাহ সিগবাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এসময় ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের রংপুরের ৬ টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের সবার কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়ে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি প্রতীকে ভোট চান। 

Tags: শফিকুর রহমান আপনারা দায়িত্ব দিলে উত্তরবঙ্গে তিস্তাতেই কোদাল বসাব