জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের নির্বাচনী সমঝোতায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দলের ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জনই উচ্চশিক্ষিত।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: পিএইচডি ও স্নাতকোত্তরধারী বেশি
এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে ২ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী। তাঁরা হলেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের আতিকুর রহমান মোজাহিদ এবং পিরোজপুর-৩ আসনের মো. শামীম হামিদী। ১৮ জন প্রার্থী স্নাতকোত্তর করেছেন, যার মধ্যে রয়েছেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এবং দুই মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম। এছাড়া, ২ জন চিকিৎসক এবং ৪ জন স্নাতক পাস প্রার্থী রয়েছেন। এনসিপির বাকি চার প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি বা সমমানের। তাঁদের মধ্যে একজন (আবদুল হান্নান মাসউদ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
এনসিপি থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একমাত্র প্রার্থী হলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের প্রীতম দাশ। তবে এই আসনটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জন্যও উন্মুক্ত রয়েছে।
প্রার্থীদের বয়সের চিত্র: গড় বয়স ৩৪ বছর
এনসিপির ৩০ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র চারজন চল্লিশোর্ধ। অবশ্য, তিনজনের বয়সের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ নেই। বাকি ২৭ জন প্রার্থীর গড় বয়স ৩৪ বছর। দলের সবচেয়ে প্রবীণ প্রার্থী হলেন নাটোর-৩ আসনের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এস এম জার্জিস কাদির, যাঁর বয়স ৬৪ বছর। চল্লিশোর্ধ অন্য প্রার্থীরা হলেন দিলশানা পারুল (ঢাকা-১৯), সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার (নোয়াখালী-২) ও মাজেদুল ইসলাম (মুন্সিগঞ্জ-২)। দলের সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থীরা হলেন ২৭ বছর বয়সী নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক), হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম। মোট ১০ জন প্রার্থীর বয়স ৩০ বছরের মধ্যে।
পেশা ও সম্পদ: ব্যবসায়ী ও পরামর্শক শীর্ষে
এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে ৮ জন ‘ব্যবসা’কে তাঁদের পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, নাবিলা তাসনিদ, এবং আরও পাঁচজন। এছাড়া, চারজন প্রার্থী তাঁদের পেশা হিসেবে ‘পরামর্শক’ উল্লেখ করেছেন। এদের মধ্যে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম 'পরামর্শক', নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘বিপণন পরামর্শক’ এবং জাহিদুল ইসলাম ‘ফ্রিল্যান্সার পরামর্শক’ হিসেবে পরিচিত। দুইজন প্রার্থী পেশায় সাংবাদিক এবং একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী। অন্যান্য পেশার মধ্যে আছেন উন্নয়নকর্মী, কৃষক, ব্যাংকিং, আইনজীবী, শিক্ষক, শিক্ষক ও গবেষক, এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক।
সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে ধনী ঢাকা-২০ আসনের নাবিলা তাসনিদ, তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৬৪ হাজার ৩২৭ টাকা। অন্যদিকে, বার্ষিক আয়ে শীর্ষে আছেন নোয়াখালী-২ আসনের সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার, যিনি বছরে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন। সবচেয়ে কম সম্পদ নরসিংদী-২ আসনের সারোয়ার তুষারের, যা মাত্র ৩ লাখ টাকা।