পালসাটাইল টিনিটাস কী?
সাধারণ টিনিটাসের চেয়ে পালসাটাইল টিনিটাস তুলনামূলকভাবে বিরল। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি কানের ভেতরে এক ছন্দময় শব্দ শুনতে পান, যা অনেক ক্ষেত্রেই হৃৎস্পন্দনের ছন্দের সঙ্গে মিলে যায়। শব্দটি কারও কাছে 'ধপধপ', কারও কাছে 'সোঁ সোঁ' বা 'হুঁইশ' ধরনের মনে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কানের আশপাশের ধমনি বা শিরায় রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে বা অস্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হলেই এমন শব্দ শোনা যেতে পারে।
কেন এই সমস্যা দেখা দেয়
পালসাটাইল টিনিটাস প্রায়শই শরীরের ভেতরের অন্য কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এই সমস্যার কিছু সাধারণ কারণ হলো—
- রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া।
- উচ্চ রক্তচাপ।
- ধমনি শক্ত হয়ে যাওয়া, যা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (Atherosclerosis) নামে পরিচিত।
- থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া।
- মাথায় আঘাত পাওয়া।
- মস্তিষ্কে চাপ বেড়ে যাওয়া, যাকে ইডিওপ্যাথিক ইনট্রাক্রানিয়াল হাইপারটেনশন (Idiopathic Intracranial Hypertension) বলা হয়।
- কানের কাছাকাছি রক্তনালির অস্বাভাবিক গঠন।
উপরে উল্লিখিত কারণগুলোর ফলে রক্তপ্রবাহের গতি বা চাপ বেড়ে গেলে ভেতরে শব্দ তৈরি হয়, যা কানে স্পষ্টভাবে শোনা যায়।
চিকিৎসা ও করণীয় কী
পালসাটাইল টিনিটাসের জন্য আলাদা কোনো একক চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। চিকিৎসক প্রথমে সমস্যাটির মূল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। যেমন, যদি রক্তস্বল্পতা বা উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে, তবে সেই রোগগুলোর চিকিৎসা শুরু করলে অনেক সময় কানের শব্দটি আপনাআপনি কমে যায় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
শব্দজনিত বিরক্তি বা অস্বস্তি কমাতে কিছু সহায়ক পদ্ধতি কাজে আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
- ঘুমের সময় হালকা গান বা 'হোয়াইট নয়েজ' (White Noise) ব্যবহার করা।
- মানসিক চাপ কমানোর বিশেষ কৌশল মেনে চলা।
- প্রয়োজনে 'কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি' বা সিবিটি (CBT) নেওয়া।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
কানে হার্টবিটের মতো শব্দ শোনা বিরক্তিকর হলেও, এটিকে সব সময় হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। এটি শরীরের ভেতরের গুরুতর কোনো সমস্যার আগাম সংকেত হতে পারে। তাই কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
- হঠাৎ করে মাত্র এক কানে হার্টবিটের মতো শব্দ শুরু হলে।
- কানের শব্দের সঙ্গে মাথা ঘোরা বা চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা হলে।
- শব্দটি হঠাৎ খুব জোরে হয়ে গেলে বা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী থাকলে।
সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।