টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। তাঁর মতে, পাকিস্তান যদি এই মেগা ইভেন্ট (Mega Event) থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে বিশ্বকাপের বৈশ্বিক মর্যাদাই ধূলিসাৎ হবে। ভারতের মাটিতে হাই-ভোল্টেজ ভারত-পাকিস্তান লড়াই না থাকলে পুরো টুর্নামেন্টটি কেবল একটি ঘরোয়া আসর বা আইপিএল (IPL)-এ পরিণত হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
আহমেদাবাদে ‘ভারত বনাম উগান্ডা’: লতিফের রসিকতা
জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘কট বিহাইন্ড’-এ আলোচনা চলাকালীন রশিদ লতিফ অত্যন্ত বিদ্রূপাত্মক ঢঙে আইসিসি (ICC) ও আয়োজকদের কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান না গেলে বিশ্বকাপের পুরো কাঠামোই ভেঙে পড়বে। একবার কল্পনা করুন, আহমেদাবাদের ১ লাখ ৩২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়ামে ভারত বনাম উগান্ডা ম্যাচ হচ্ছে! পাকিস্তান না থাকলে দর্শকদের আগ্রহ কোথায় গিয়ে ঠেকবে, সেটিই দেখার বিষয়।”
মূলত পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অনুপস্থিতিতে বিশ্বকাপের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ (Brand Value) যে তলানিতে ঠেকবে, সেটিই হাস্যরসের ছলে ফুটিয়ে তুলেছেন এই সাবেক ক্রিকেটার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরে দাঁড়ানোর পর তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানও সরে দাঁড়ালে সেখানে উগান্ডার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের ‘সাহসী’ অবস্থানের প্রশংসা
ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) ভূয়সী প্রশংসা করেন রশিদ লতিফ। তাঁর মতে, বাংলাদেশ তাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে একটি ‘ক্লিয়ার অ্যান্ড বোল্ড’ (Clear and Bold) অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একা বয়কট করলে হয়তো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থাকত, কিন্তু পাকিস্তানও যদি একই পথে হাঁটে, তবে আইসিসি বড় সংকটে পড়বে। তখন এটি আর ওয়ার্ল্ড কাপ থাকবে না, হয়ে যাবে আইপিএল-এর বর্ধিত সংস্করণ।”
রাজনৈতিক প্রভাব ও বিসিসিআই-এর ভূমিকা
রশিদ লতিফ সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই (BCCI) বর্তমানে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্ব ক্রিকেটের মোট দর্শকের অন্তত ৫০ শতাংশ কেবল ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ দেখার জন্য মুখিয়ে থাকে। এই ম্যাচ না থাকলে টুর্নামেন্টের ব্যবসায়িক সাফল্য এবং দর্শকদের উম্মাদনা—উভয়ই বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।
পিসিবি-র পরবর্তী পদক্ষেপ ও সরকারি নির্দেশনা
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সাম্প্রতিক মন্তব্যের রেশ ধরে লতিফ বলেন, “বোর্ড ও সরকারের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা সম্ভবত হয়ে গেছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।” পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি ফিরলেই জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক দিক বিবেচনা করে পাকিস্তান বিশ্বকাপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, রশিদ লতিফের এই মন্তব্য বিশ্ব ক্রিকেটে বিদ্যমান মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রধান শক্তির অনুপস্থিতি আইসিসি-র জন্য কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং টুর্নামেন্টের সার্বজনীনতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।