শোবিজ জগত থেকে রাজনীতির ময়দান—সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার বিজয় থালাপাতি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর (CBI) ম্যারাথন জেরা এবং তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ ছবি ‘জন নায়াগান’-এর (Jon Nayagan) মুক্তি নিয়ে চলমান আইনি টানাপোড়েনের মাঝে প্রথমবার মুখ খুললেন এই অভিনেতা-রাজনীতিবিদ। মামল্লাপুরমে আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক সভায় প্রায় ৩ হাজার দলীয় নেতাকর্মীর সামনে বিজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো চাপের কাছেই তিনি নতি স্বীকার করবেন না।
অদম্য বিজয়: “আমি হার মানতে শিখিনি”
তামিলনাড়ুর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (TVK)-এর রণকৌশল নির্ধারণে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আবেগঘন অথচ আক্রমণাত্মক কণ্ঠে বিজয় বলেন, “আমি কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই আত্মসমর্পণ করব না। আমার মাথা কখনোই নিচু হবে না।” সিবিআই তদন্ত এবং তাঁর চলচ্চিত্রের ওপর সেন্সর বোর্ডের (Censor Board) খড়্গকে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই ইঙ্গিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত বছর করুরে বিজয়ের এক রাজনৈতিক সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই বর্তমানে তদন্ত চালাচ্ছে। এই ইস্যুতে দিল্লিতে তাঁকে দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।
সিনেমা যখন প্রতিবাদের ভাষা: ‘জন নায়াগান’ বিতর্ক
বিজয় থালাপাতির ক্যারিয়ারের শেষ সিনেমা হিসেবে পরিচিত ‘জন নায়াগান’ বর্তমানে সেন্সরশিপের মারপ্যাঁচে আটকে আছে। ছবির বিষয়বস্তুতে রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতা থাকার অভিযোগে সেন্সর বোর্ড এর মুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিষয়টি নিয়ে বিজয় বর্তমানে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ভক্তদের দাবি, পর্দার ‘জন নায়াগান’ (গণনায়ক) আসলে বিজয়ের রাজনৈতিক দর্শনেরই এক প্রতিচ্ছবি, যা ক্ষমতাসীনদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনী রণহুঙ্কার: “তোমরাই আমার কমান্ডো”
তামিলনাড়ুর দ্বিমেরু রাজনীতিতে ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)—উভয় পক্ষকেই তীব্র আক্রমণ করেছেন বিজয়। ক্ষমতাসীন ডিএমকে-কে ‘অশুভ শক্তি’ এবং প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে-কে ‘দুর্নীতিবাজ শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে অনেকেই আজ সিএন আন্নাদুরাইয়ের আদর্শ ভুলে গেছেন। কিন্তু আমাদের লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য।”
আসন্ন নির্বাচনকে কেবল একটি ভোট হিসেবে নয়, বরং ‘গণতান্ত্রিক যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করে বিজয় তাঁর সমর্থকদের ‘কমান্ডো’ (Commandos) হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি ভোট রক্ষা করা এবং প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছানোই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
২৩৪ আসনে রোড-শো: টিভিকে-র মাস্টারপ্ল্যান
আগামীকাল থেকেই তামিলনাড়ু জুড়ে এক বিশাল প্রচারণা সফরের (Statewide Campaign) পরিকল্পনা নিয়েছে বিজয়ের দল টিভিকে। রাজ্যের মোট ২৩৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই এই সফর চলবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, থালাপাতি বিজয়ের এই সফর দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। এখনো কোনো বড় দলের সঙ্গে জোটে যাওয়ার ঘোষণা না দিলেও, বিজয়ের এই একক শক্তি প্রদর্শন দ্রাবিড় রাজনীতির পুরোনো সমীকরণগুলো বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সিনেমা ও রাজনীতির এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ৫১ বছর বয়সী এই মেগাস্টার প্রমাণ করে দিলেন যে, পর্দার মারপিট নয়, বরং বাস্তবের ময়দানেই এখন তাঁর আসল লড়াই শুরু হয়েছে।